ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকাকে নতুন করে গড়ে তুলতে এক বিশাল আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার নবগঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’ (Board of Peace)-এর মাধ্যমে গাজা পুনর্নির্মাণে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার (৫ বিলিয়ন ডলার) সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে। স্থানীয় সময় রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিজেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অব পিস’-এর ঐতিহাসিক বৈঠক
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন রাজধানী ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকেই সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে গাজা পুনর্গঠনের জন্য ৫০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হবে। গত জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডে এই সংস্থার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল, যেখানে ট্রাম্প নিজেই এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
নিজের পোস্টে ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "বোর্ড অব পিস ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থায় পরিণত হতে যাচ্ছে। এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য বড় সম্মানের বিষয়।" তবে কোন কোন দেশ এই পুনর্গঠন তহবিলে অর্থ দিচ্ছে কিংবা গাজায় শান্তি বজায় রাখতে প্রস্তাবিত ‘স্ট্যাবিলিটি ফোর্স’ (Stability Force)-এ যোগ দেবে, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত খোলসা করেননি তিনি।
সহায়তার ঘোষণা বনাম গাজায় চলমান অস্থিরতা
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ গাজার বাসিন্দাদের জন্য একটি বড় ধরনের ‘হিউম্যানিটেরিয়ান এইড’ (Humanitarian Aid) বা মানবিক সহায়তা হিসেবে কাজ করবে। তবে এক দিকে যখন পুনর্গঠনের বিশাল পরিকল্পনা চলছে, অন্য দিকে গাজায় এখনো থামেনি রক্তক্ষয়ী সংঘাত। তথাকথিত যুদ্ধবিরতি বা ‘সিসফায়ার’ (Ceasefire)-এর মধ্যেও গত রোববার গাজার বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করায় তারা ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে’ (Targeted Attack) হামলা চালিয়েছে। তবে হামাস এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে বাস্তুচ্যুত মানুষের ওপর নতুন করে ‘জেনোসাইড’ বা গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
পশ্চিম তীরে জমি দখলের নতুন বিতর্ক
গাজা পরিস্থিতির পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীর নিয়েও নতুন উত্তজনা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরের একটি বড় অংশের জমিকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ (State Property) হিসেবে নিবন্ধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের প্রত্যক্ষ মদতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক মহল। আন্তর্জাতিক আইন (International Law) অনুযায়ী, কোনো দখলদার শক্তি অধিকৃত ভূখণ্ডের জমি বাজেয়াপ্ত বা সেখানে বসতি স্থাপন করতে পারে না।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ
ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ গাজা পুনর্গঠনের যে ‘ভিশন’ (Vision) নিয়ে কাজ শুরু করেছে, তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিতে পারে। তবে এই বিশাল অর্থ সহায়তা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে অঞ্চলটিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের ওপর। বিশ্বনেতারা এখন আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারির বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছেন, যেখানে গাজার ভবিষ্যৎ রূপরেখা চূড়ান্ত হতে পারে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ক্ষত মুছতে ওয়াশিংটনে বসছে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক; মার্কিন প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে নতুন আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া।
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকাকে নতুন করে গড়ে তুলতে এক বিশাল আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার নবগঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’ (Board of Peace)-এর মাধ্যমে গাজা পুনর্নির্মাণে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার (৫ বিলিয়ন ডলার) সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে। স্থানীয় সময় রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিজেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অব পিস’-এর ঐতিহাসিক বৈঠক
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন রাজধানী ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকেই সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে গাজা পুনর্গঠনের জন্য ৫০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হবে। গত জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডে এই সংস্থার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল, যেখানে ট্রাম্প নিজেই এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
নিজের পোস্টে ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "বোর্ড অব পিস ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থায় পরিণত হতে যাচ্ছে। এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য বড় সম্মানের বিষয়।" তবে কোন কোন দেশ এই পুনর্গঠন তহবিলে অর্থ দিচ্ছে কিংবা গাজায় শান্তি বজায় রাখতে প্রস্তাবিত ‘স্ট্যাবিলিটি ফোর্স’ (Stability Force)-এ যোগ দেবে, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত খোলসা করেননি তিনি।
সহায়তার ঘোষণা বনাম গাজায় চলমান অস্থিরতা
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ গাজার বাসিন্দাদের জন্য একটি বড় ধরনের ‘হিউম্যানিটেরিয়ান এইড’ (Humanitarian Aid) বা মানবিক সহায়তা হিসেবে কাজ করবে। তবে এক দিকে যখন পুনর্গঠনের বিশাল পরিকল্পনা চলছে, অন্য দিকে গাজায় এখনো থামেনি রক্তক্ষয়ী সংঘাত। তথাকথিত যুদ্ধবিরতি বা ‘সিসফায়ার’ (Ceasefire)-এর মধ্যেও গত রোববার গাজার বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করায় তারা ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে’ (Targeted Attack) হামলা চালিয়েছে। তবে হামাস এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে বাস্তুচ্যুত মানুষের ওপর নতুন করে ‘জেনোসাইড’ বা গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
পশ্চিম তীরে জমি দখলের নতুন বিতর্ক
গাজা পরিস্থিতির পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীর নিয়েও নতুন উত্তজনা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরের একটি বড় অংশের জমিকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ (State Property) হিসেবে নিবন্ধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের প্রত্যক্ষ মদতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক মহল। আন্তর্জাতিক আইন (International Law) অনুযায়ী, কোনো দখলদার শক্তি অধিকৃত ভূখণ্ডের জমি বাজেয়াপ্ত বা সেখানে বসতি স্থাপন করতে পারে না।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ
ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ গাজা পুনর্গঠনের যে ‘ভিশন’ (Vision) নিয়ে কাজ শুরু করেছে, তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিতে পারে। তবে এই বিশাল অর্থ সহায়তা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে অঞ্চলটিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের ওপর। বিশ্বনেতারা এখন আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারির বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছেন, যেখানে গাজার ভবিষ্যৎ রূপরেখা চূড়ান্ত হতে পারে।