• জাতীয়
  • জুলাই গণহত্যার বিচার: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ পলাতক আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

জুলাই গণহত্যার বিচার: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ পলাতক আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
জুলাই গণহত্যার বিচার: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ পলাতক আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

ট্রাইব্যুনালে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিলেন শহীদ আসিফ ইকবালের বাবা; ইনু ও সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের মামলার পরবর্তী দিন ধার্য

গণহত্যার বিচার: কাঠগড়ায় ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ নেতারা

চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের (Crimes Against Humanity) বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন এক ধাপে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (ICT-2)-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই ঐতিহাসিক শুনানি শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

সাক্ষী যখন সন্তানহারা পিতা: আসিফ ইকবালের সেই রক্তঝরা দিন

মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি প্রদান করেন মিরপুর-১০ এলাকায় আন্দোলনে প্রাণ হারানো শহীদ আসিফ ইকবালের বাবা এমএ রাজ্জাক। জবানবন্দি দেওয়ার সময় এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি আদালতকে জানান, তাঁর ছেলে কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি ‘দারাজ’-এ চাকরি করতেন। ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় ছাত্র-জনতার উত্তাল আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন আসিফ।

রাজ্জাক বলেন, “সেদিন জুমার নামাজ শেষে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল আমার ছেলে।” জবানবন্দি চলাকালীন তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করায় বিচারিক প্যানেল তাঁর বক্তব্য অসমাপ্ত রেখেই পরবর্তী শুনানির জন্য বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিন ধার্য করেন।

পলাতক আসামিদের বিচার ও আইনি প্রক্রিয়া

এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অন্য প্রভাবশালী আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

উল্লেখ্য, গত ২২ জানুয়ারি এই সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের (Framing of Charges) মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিরা বর্তমানে পলাতক (Absconding) থাকায় গত ৮ জানুয়ারি তাদের পক্ষে দুজন ‘স্টেট ডিফেন্স’ আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (Formal Charge) গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর আমলে নিয়েছিলেন আদালত।

হাসানুল হক ইনু ও হাবিবুর রহমানের মামলার আপডেট

অন্যদিকে, কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মামলার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। তবে এদিন সাফাই সাক্ষী হাজির করতে ব্যর্থ হওয়ায় ইনুর আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছেন। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইনুর নির্দেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়, যাতে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ ছয়জন শহীদ হন।

একই দিনে, জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় শহীদ হওয়া ইমাম হাসান ভূঁইয়া তাইম হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আবারও পিছিয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া জেআইসি (JIC) সেলে গুমের মামলার শুনানিও সাক্ষী উপস্থিত না থাকায় অনুষ্ঠিত হয়নি।

দেশের ইতিহাসে জুলাই বিপ্লবের এই বিচার কার্যক্রমকে অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউশন টিম।

Tags: crimes against humanity human rights witness testimony ict bangladesh obaidul quader justice system july-august genocide hasanul haq inu mirpur murder bahauddin nasim