চীনা চন্দ্র নববর্ষের (Lunar New Year) রঙে যখন সেজেছে পুরো দেশ, ঠিক তখনই এক মর্মান্তিক বিষ্ফোরণে কেঁপে উঠল চীনের মধ্যাঞ্চল। উৎসবের দ্বিতীয় দিনে আনন্দের পরিবর্তে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ঝেংজি (Zhengji) শহরে। একটি আতশবাজির দোকানে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি (CCTV)।
উৎসবের দুপুরে অতর্কিত বিপর্যয়
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ঝেংজি শহরের ওই আতশবাজি ও পটকার দোকানে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। মুহূর্তেই সেই আগুন রূপ নেয় প্রলয়ঙ্কারী বিস্ফোরণে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আগুনের তীব্রতা এবং শব্দ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে আশপাশের প্রায় ৫০ বর্গমিটার এলাকা পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকাজ সমাপ্ত হলেও বিষ্ফোরণের সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ঐতিহ্য বনাম নিরাপত্তা ঝুঁকি
চীনে চন্দ্র নববর্ষ বা ‘স্প্রিং ফেস্টিভ্যাল’ উদযাপনে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো হাজার বছরের পুরনো রীতি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিবেশ দূষণ এবং অগ্নিঝুঁকির আশঙ্কায় বেইজিং ও সাংহাইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে আতশবাজি ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা (Ban) জারি করা হয়েছে। কিন্তু ছোট শহর এবং গ্রামাঞ্চলে এখনো এই প্রথা ব্যাপকভাবে প্রচলিত। যথাযথ সেফটি মেজারস (Safety Measures) বা সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই যত্রতত্র আতশবাজি মজুত রাখা এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা ও উদ্বেগের চিত্র
চীনে শিল্প কারখানায় নিরাপত্তার মান (Safety Standards) নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। চলতি মাসের শুরু থেকেই দেশটিতে একের পর এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। গত রবিবারই পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু প্রদেশে অন্য একটি আতশবাজির দোকানে বিস্ফোরণে ৮ জন প্রাণ হারান। এর আগে শানসি প্রদেশের একটি বায়োটেক কারখানায় এবং ইনার মঙ্গলিয়া অঞ্চলের একটি স্টিল কারখানায় (Steel Plant) পৃথক বিষ্ফোরণে ১৭ জনের মৃত্যু হয়।
পরপর এসব দুর্ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় (Emergency Management Ministry)। সারা দেশের আতশবাজি কারখানা ও দোকানে কড়া নজরদারি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি (Risk Assessment) পুনরায় যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে জনসমাগমস্থলে ধূমপান বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে পটকা ফোটানোর বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদকীয় পর্যবেক্ষণ
দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নেশায় চীন অনেক ক্ষেত্রেই ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি (Industrial Safety) এবং ওয়ার্কপ্লেস প্রোটোকলগুলোকে অবজ্ঞা করে আসছে। উৎসবের মৌসুমে এই অবহেলাই সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঝেংজি শহরের এই মর্মান্তিক ঘটনা প্রমাণ করে যে, কেবল নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং গ্রাউন্ড লেভেলে নিরাপত্তা আইনের কঠোর প্রয়োগই পারে এমন প্রাণহানি ঠেকাতে।