পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রোজা শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করেন তিনি। হোয়াইট হাউস (White House) থেকে জারি করা এক বিশেষ বিবৃতিতে ট্রাম্প ধর্মীয় স্বাধীনতাকে আমেরিকার শক্তির অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আধ্যাত্মিক নবায়ন ও কৃতজ্ঞতার মাস
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দেওয়া ওই বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রমজানকে ‘আধ্যাত্মিক নবায়ন’ (Spiritual Renewal), গভীর আত্মমনন এবং সৃষ্টিকর্তার অগণিত নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক পবিত্র সময় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আজ আমি রমজান উদযাপনকারী সবার প্রতি আমার উষ্ণ শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানাচ্ছি। এই মাসটি আমাদের সংযম ও ত্যাগের মহিমা শেখায়।”
ট্রাম্পের মতে, রমজান কেবল উপবাসের মাস নয়, বরং এটি পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করার একটি বিশেষ সুযোগ। তিনি উল্লেখ করেন, লাখ লাখ মার্কিন মুসলিম প্রার্থনা ও রোজার মাধ্যমে এই মাসটি পালন করেন, যা আমেরিকার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করে।
ধর্মীয় স্বাধীনতা: আমেরিকার শক্তির মূল ভিত্তি
শুভেচ্ছা বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধর্মীয় স্বাধীনতা সুরক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “অবাধ ও স্বতন্ত্রভাবে ধর্ম পালন করার সৃষ্টিকর্তাপ্রদত্ত অধিকার আমাদের জাতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। এটি আমাদের সমৃদ্ধি ও শক্তির একটি অবিচ্ছেদ্য স্তম্ভ (Pillar of Strength)।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ধর্মীয় স্বাধীনতা মানে হলো আপনার ধর্ম বিশ্বাসকে অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে এবং কোনো ধরনের নিপীড়ন বা ভয়ের (Persecution) ঊর্ধ্বে থেকে পালন করার অধিকার।” তাঁর প্রশাসন সব আমেরিকান নাগরিকের জন্য ভয়হীন পরিবেশে ধর্ম পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলে তিনি জানান।
সহমর্মিতা ও বিশ্বশান্তির আহ্বান
বিবৃতিতে ট্রাম্প রমজানের মূল শিক্ষা—সহমর্মিতা, দানশীলতা, দয়া ও বিনয়ের মতো মানবিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই পবিত্র মাসটি বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে সহনশীলতা বৃদ্ধি করবে।
বার্তার শেষভাগে শান্তি ও ঐক্যের জন্য প্রার্থনা করে তিনি বলেন, “এই অনুগ্রহ ও সদিচ্ছার মৌসুমে আমি বিশ্বের প্রতিটি ঘরে সুখ ও পরিতৃপ্তি কামনা করছি। বিশ্বজুড়ে তৈরি হোক অটুট ঐক্য ও শান্তি।” আগামী বছরের জন্য সবার ওপর সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ প্রার্থনা করে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বার্তা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় সহাবস্থানের চিত্র ফুটিয়ে তোলার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ (Strategic Move)।