• বিনোদন
  • রণবীরের প্রাণনাশের হুমকির নেপথ্যে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছায়া? আমেরিকা কানেকশনে পর্দাফাঁস করল মুম্বাই পুলিশ

রণবীরের প্রাণনাশের হুমকির নেপথ্যে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছায়া? আমেরিকা কানেকশনে পর্দাফাঁস করল মুম্বাই পুলিশ

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
রণবীরের প্রাণনাশের হুমকির নেপথ্যে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছায়া? আমেরিকা কানেকশনে পর্দাফাঁস করল মুম্বাই পুলিশ

বলিউড সুপারস্টার রণবীর সিংয়ের কাছে ১০ কোটি রুপির দাবি, হ্যারি বক্সারের সন্ধানে আন্তর্জাতিক তদন্তে নামছে প্রশাসন।

গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্যের আড়ালে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে অপরাধ জগতের অন্ধকার ছায়া। এবার টার্গেটে বলিউডের প্রভাবশালী অভিনেতা রণবীর সিং। এক সপ্তাহ আগে রণবীরকে হত্যার হুমকি দিয়ে ১০ কোটি রুপি দাবি করার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিল তদন্ত। মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, এই হুমকির নেপথ্যে রয়েছে সুদূর আমেরিকার এক রহস্যময় যোগাযোগ। আন্তর্জাতিক তদন্তকারী সংস্থার সহায়তায় অপরাধীদের জাল গুটিয়ে আনছে পুলিশ।

আমেরিকা থেকে হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি: নেপথ্যে কে?

মুম্বাই পুলিশ সূত্রে খবর, রণবীর সিংয়ের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভয়েস নোট পাঠিয়ে এই হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে অত্যন্ত কড়া ভাষায় ১০ কোটি রুপি দাবি করে জানানো হয়, টাকা না দিলে পরিণাম হবে ভয়াবহ। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে তৎক্ষণাৎ তদন্তে নামে সাইবার সেল এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চ। দীর্ঘ এক সপ্তাহের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং আমেরিকার তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের পর বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। জানা গেছে, হুমকি বার্তাটি যে নম্বর থেকে পাঠানো হয়েছিল, সেটি আমেরিকার একটি ফোন নম্বর। আর সেই নম্বরটি হ্যারি বক্সার নামক এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত।

বিষ্ণোই গ্যাং ও 'হ্যারি বক্সার' কানেকশন

তদন্তকারীদের দাবি, এই হ্যারি বক্সার কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধী নন; বরং কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নেটওয়ার্ক এখন কেবল ভারতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিদেশে বসেও তারা বলিউডের ওপর থাবা বসানোর চেষ্টা করছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, হ্যারি বক্সারই রণবীর সিংকে হত্যার হুমকি দিয়ে Extortion বা তোলাবাজির এই ছক কষেছেন। ঘটনার গভীরে যেতে এবং হ্যারি বক্সারের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।

নিরাপত্তার চাদরে বলিউড: লক্ষ্য যখন তারকারা

সাম্প্রতিক সময়ে বলিউডে হুমকির সংস্কৃতি এক ভীতিকর রূপ নিয়েছে। রণবীর সিং একাই নন, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং বা তাদের অনুগামীদের নিশানায় রয়েছেন অভিনেতা সালমান খান, পরিচালক রোহিত শেঠি এবং অভিনেত্রী হিমাংশি খুরানাসহ একাধিক প্রথম সারির তারকা। একের পর এক হুমকি বার্তায় কার্যত টালমাটাল বি-টাউন। এই পরিস্থিতিতে মুম্বাই পুলিশ এবং মহারাষ্ট্র সরকার বলিউডের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করতে নারাজ। অপরাধীদের শিকড় উপড়ে ফেলতে প্রয়োজনে ইন্টারপোল বা আন্তর্জাতিক স্তরে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।

তদন্তে নয়া মোড় ও পরবর্তী পদক্ষেপ

মুম্বাই পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, "আমরা ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট অনুসরণ করে অপরাধীর পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সংশ্লিষ্ট নম্বরটির কল রেকর্ড এবং মেসেজ হিস্ট্রি খতিয়ে দেখা। এই চক্রান্তের পেছনে আরও বড় কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।" আপাতত রণবীর সিংয়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং অভিনেতাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।