আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে কালক্ষেপণ করেনি তেহরান। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাত থেকে ‘ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী’ (IRGC) ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো (US Military Bases) লক্ষ্য করে এক নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা (Missile and Drone Attack) শুরু করেছে। এই পাল্টা আঘাতের প্রভাবে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতেও রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে।
কাতারে আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি রোববার (১ মার্চ) কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দেশটিতে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে দোহা থেকে ৮ জন আহতের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেলেও পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে কাতারের বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আইআরজিসি-র এই ‘Massive Strikes’ পুরো অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে (Air Defense System) চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
আবুধাবি বিমানবন্দরে প্রাণহানি ও দুবাইয়ে আতঙ্ক হামলার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে। দেশটির প্রধান প্রবেশপথ জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Zayed International Airport) একটি ইরানি ড্রোন সরাসরি আঘাত হানে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘X’-এ (সাবেক টুইটার) নিশ্চিত করেছে যে, এই ড্রোন হামলায় ১ জন নিহত এবং অন্তত ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, পর্যটন নগরী দুবাইও এই হামলা থেকে রেহাই পায়নি। রোববার ভোরে দুবাইয়ের আকাশে বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ জুমেইরাহ সৈকতের পাশে অবস্থিত আইকনিক ‘বুর্জ আল আরব’ (Burj Al Arab) হোটেলের ঠিক বাইরে একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও গোটা শহরে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আইআরজিসি-র রণকৌশল ও আঞ্চলিক অস্থিরতা ইরানের সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খামেনি হত্যার প্রতিবাদে এটি একটি সমন্বিত ‘Counter-Attack’। তাদের মূল লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতি এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা অবকাঠামো। বাহরাইনের মানামাতেও বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে, যা নির্দেশ করে যে এই সংঘাতের পরিধি দ্রুত বাড়ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার সাধারণ জনগণকে কোনো ধরনের গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে এবং কেবল সরকারি সূত্রের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করতে অনুরোধ করেছে।
চূড়ান্ত সংঘাতের পথে মধ্যপ্রাচ্য? খামেনি নিধনের পর ইরানের এই পাল্টা আঘাত মধ্যপ্রাচ্যকে এক পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের (Regional War) কিনারে নিয়ে এসেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রযুক্তি ও ইসরায়েলের সামরিক শক্তি, অন্যদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা—এই দুইয়ের লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাতারের ১৬ জন আহত এবং আবুধাবিতে ১ জনের মৃত্যু ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই ছায়াযুদ্ধ এখন আর কেবল তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর উত্তাপ পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।