আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির আকস্মিক প্রয়াণে ক্ষোভে ফুঁসছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে খামেনির মৃত্যুর পর এবার সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার (১ মার্চ) সকালে প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক কড়া বার্তায় তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘গুরুতর অপরাধ’ (Grave Crime) হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
রক্তক্ষয়ী প্রতিশোধের শপথ ও ‘নতুন অধ্যায়’ প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, খামেনির রক্ত বৃথা যেতে দেবে না ইরান। তিনি বলেন, “এই ঘৃণ্য অপরাধ কখনোই বিনা জবাবে পার পাবে না। এটি কেবল একটি মৃত্যু নয়, বরং এটি ইসলামি বিশ্বের এবং শিয়াবাদের (Shi’ism) ইতিহাসে এক নতুন ও বিপ্লবী অধ্যায়ের সূচনা করবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এই মহান নেতার বিশুদ্ধ রক্ত একটি প্রলয়ংকরী স্রোতের মতো প্রবাহিত হবে, যা মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন-জায়োনিস্টদের (US-Zionist) শোষণ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের শিকড় নির্মূল করে ছাড়বে।” তেহরানের এই বার্তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ‘Escalation’ ঘটতে যাচ্ছে।
শত্রুদের অনুতপ্ত করার অঙ্গীকার প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার বক্তব্যে ইরানের সামরিক শক্তি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের (Regional Allies) শক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, “এবার আমরা আমাদের পূর্ণ শক্তি, দৃঢ়তা এবং বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের সমর্থন নিয়ে এই বর্বরোচিত হামলার পরিকল্পনাকারী ও হামলাকারীদের এমন শিক্ষা দেব, যাতে তারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে বাধ্য হয়।”
বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্যে ‘Retaliation’ বা পাল্টা আক্রমণের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত রয়েছে, যা কি না ড্রোন হামলা বা অন্য কোনো সামরিক কৌশলে প্রতিফলিত হতে পারে।
দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক ও দীর্ঘ ছুটি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে ইরানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। এর পাশাপাশি, জাতীয় শোক পালনের সুবিধার্থে এবং পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাত দিনের সরকারি ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে ইরানের সরকারি প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
অনিশ্চয়তার মুখে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা খামেনির নিধন এবং প্রেসিডেন্টের এই রণংদেহী মেজাজ মধ্যপ্রাচ্যে এক বড় ধরনের ‘Geopolitical Shift’ নিয়ে আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেখানে একে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিজয় হিসেবে দেখছে, ইরান একে দেখছে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত হিসেবে। আন্তর্জাতিক মহলে এখন বড় প্রশ্ন—ইরান কি সরাসরি কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে, নাকি তাদের ‘Proxy’ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাল্টা আঘাত হানবে?
আগামী কয়েক দিন তেহরানের প্রতিটি পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতির বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।