ভাঙ্গাচোরা বেড়ার ঘরে চল্লিশর্ধো ছবিতা বালা ও এক মেয়ের সংসার। পলিথিনের বেড়া আর উপরে ফুটো টিন ছাউনির ঘর।সাপ, ব্যাঙ আর কেঁচোর সাথে নিত্য যুদ্ধ। গ্রামের অনেকেই সরকারী ভাবে বাড়িঘর পেয়েছেন।কিন্তু ছবিতা বালার কপালে জোটেনি সরকারী বাড়ি।সামন্য বৃষ্টি আর দমকা বাতাসে ঘরের ছাউনির সাথে নিজেদের প্রাণও উড়ে যায়।এ ভাবেই মা ও মেয়ের বসবাস করছেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব বিছনদই গ্রামে। তাদের চোখে কোন রঙ্গিন স্বপ্ন নেই। তারা চাই একটু নির্ভরতা। মাথা গোজার ঠাঁই। জরাজীর্ন ছাপড়া ঘরে মানবেতর জীবনযাপন কাটাচ্ছেন তারা। দু’বেলা দু মুঠো খাবারের সন্ধান করতে গিয়ে ঘর মেরামত করার চিন্তা তারা ভুলেই গেছেন। বিয়ের পর স্বামীও চলে যায়। ছবিতার ঘরে জম্মে ছিলো দু'টি মেয়ে সন্তান। বড় মেয়ের বিয়ের পর মারা যায় আর ছোট মেয়ে বর্তমানে ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নে আজিজুর রহমান নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেনীতে লেখা পড়া করে।
প্রতিবেশি কুন্তী বালা বলেন,ছবিতা ও তার মেয়েকে নিয়ে ভিষণ কষ্ট করে দিন পার করছেন।ছবিতার বিয়ের পর তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যায়। তাদের থাকার মত একটি ঘর সেটাও ভাঙা। রোদ বৃষ্টিতে ওইখানে তাদের থাকতে হয়।
ছবিতা বালা বলেন, চেয়ারম্যান আমাদের ১০ টাকা কেজি দরে চাল দিয়েছে। তা দিয়ে এবং পরের বাড়ি কাজ করে সংসার চলছিল। কিন্তু ঝড়ে মাথা গোজার একমাত্র জায়গাটুকু লন্ডভন্ড করে দিয়েছে।
তিনি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে সরকারী ঘর দাবী করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ্যাড.মশিউর রহমান জানান,পূর্ববিছনদই গ্রামের ওই পরিবারকে আমি চিনি। ছবিতা বালাকে ১০টাকা কেজি দরে চালের কার্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘরের ব্যাপারে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত ভাবে দরখাস্ত দেয়িছি।
এবিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন হক বলেন,আপাতত সরকারি ভাবে ঘরের কোন বরাদ্দ নাই।তবে আসলে আমরা ঘর করে দিবো।