চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে অগণিত প্রাণ ঝরেছে, যার মধ্যে শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের আত্মত্যাগ এ জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কিন্তু সেই শোক কাটতে না কাটতেই শহীদ আব্দুল্লাহর পরিবারে নেমে আসে আরও বড় এক বিপর্যয়। আব্দুল্লাহর ছোট ভাই জিসান কোলন ক্যান্সারের (Colon Cancer) মতো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। এই কঠিন সময়ে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে আবারও জিসানের চিকিৎসার পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমান।
গুলশানে আর্থিক সহায়তা হস্তান্তর রোববার (১ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মায়ের হাতে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর পক্ষ থেকে পুনরায় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এই আর্থিক অনুদান পৌঁছে দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ সময় শহীদ পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি জানানো হয়, জিসানের সুস্থ হয়ে ওঠা পর্যন্ত সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
বড় ছেলের শাহাদাত ও ছোট ছেলের ক্যান্সার: এক মায়ের ট্র্যাজেডি শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের পরিবারের গল্পটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আব্দুল্লাহ। বড় ছেলেকে হারানোর মাত্র ১৪ দিনের মাথায় মা জানতে পারেন, তার ১৪ বছর বয়সী ছোট ছেলে জিসান থার্ড স্টেজ (Stage 3) কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত। বড় ছেলেকে দেশের জন্য উৎসর্গ করার পর ছোট ছেলের এই মরণব্যাধির খবর পরিবারটিকে দিশেহারা করে ফেলে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ (Amra BNP Poribar) প্রথম থেকেই তাদের পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছে।
ধারাবাহিক চিকিৎসা সহায়তা ও কেমোথেরাপি জিসানের সুচিকিৎসার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন তারেক রহমান। এর আগে জিসানের বেশ কয়েকটি কেমোথেরাপি (Chemotherapy) এবং রেডিওথেরাপির (Radiotherapy) সম্পূর্ণ ব্যয়ভার তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বহন করা হয়েছে। সম্প্রতি জিসানের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে বেশ কিছু জটিল টেস্ট (Medical Tests) ও নতুন ওষুধের প্রয়োজন পড়ে। এই অতিরিক্ত খরচের জন্যও তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করেছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
কৃতজ্ঞতায় সিক্ত শহীদ পরিবার চিকিৎসা সহায়তা গ্রহণকালে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শহীদ আব্দুল্লাহর মা। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বড় ছেলেকে হারানোর পর ছোট ছেলেকে বাঁচিয়ে রাখতে তারেক রহমান যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা আমি কোনোদিন ভুলব না। আল্লাহ যেন তাকে ওনার এই মানবিক কাজের প্রতিদান দেন।”
সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ সংগঠনের অন্য সদস্য এবং সিনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে বিএনপি রাজনৈতিক দায়িত্বের চেয়েও মানবিক কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করে।