• দেশজুড়ে
  • সৈয়দপুরে ভেজাল লাচ্ছা সেমাই সয়লাব, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

সৈয়দপুরে ভেজাল লাচ্ছা সেমাই সয়লাব, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
সৈয়দপুরে ভেজাল লাচ্ছা সেমাই সয়লাব, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী।

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ভেজাল সেমাই তৈরীতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে বাণিজ্যিক শহর নীলফামারী সৈয়দপুরের সেমাই কারখানাগুলো। কিছু অসাধু সেমাইকারখানার মালিক ঈদকে কাজে লাগিয়ে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরীর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, শহরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠা অস্থায়ী ও মৌসুমি কারখানায় নিন্মমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই। অভিযোগ রয়েছে, পচা ডিম, অ্যানিমেল ফ্যাট (পশুর চর্বি), কৃত্রিম ঘি, পচা পামওয়েল ও ডালডা ব্যবহার করে সেমাই উৎপাদন চলছে পুরোদমে। এছাড়াও, পড়ছে শ্রমিদের গায়ের ঘাম। সরেজমিনে দেখা যায়, সৈয়দপুর খালেক পাম্প সংলগ্ন জুম্মাপাড়া, কাজীরহাট, পুরাতন বাবুপাড়া, বাঁশবাড়ী, মিস্ত্রিপাড়া ও গোলাহাটসহ শহরের অলি গলি ও বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জে গড়ে উঠেছে এসব কারখানা। অধিকাংশ কারখানার নেই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর অনুমোদন। নেই স্বাস্থ্যসম্মত উৎপাদন ব্যবস্থাপনা বা প্রয়োজনীয় তদারকি। নিয়ম অনুযায়ী সেমাই তৈরির কারখানায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মানসম্মত কাঁচামাল এবং শ্রমিকদের অ্যাপ্রোন, হেডকভার ও গøাভস ব্যবহার বাধ্যতামূলক। অথচ অধিকাংশ কারখানায় এসবের বালাই নেই। ঘামভেজা শরীরেই শ্রমিকরা কাজ করছেন এবং কোথাও কোথাও মেঝেতে শুকানো হচ্ছে সেমাই। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শামসুল আলম বলেন,প্যাকেটের গায়ে নামিদামি কোম্পানির লেবেল দেখে এসব সেমাই কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে সাধারণ জনগণ। দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই না বুঝে কিনছেন। স্থানীয়ভাবে তৈরি সেমাই নামিদামি ব্র্যান্ডের স্টিকার লাগিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের পক্ষে আসল-নকল যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এসব সেমাই শুধু সৈয়দপুরেই নয়, আশপাশের জেলা ও উপজেলা শহরের হাটবাজারেও পাঠানো হচ্ছে পাইকারিভাবে। বৈধ ও অনুমোদিত কারখানার মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, অস্থায়ী ও মৌসমি কারখানা গুলোর কারণে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি কারখানা মালিক বলেন, আমরা নিয়ম মেনে মানসম্মত কাঁচামাল ব্যবহার করি। কিন্তু ভেজালকারীরা কম দামে বাজারে লাচ্ছা সেমাই বিক্রি করায় প্রতিযোগিতা হেরে যাচ্ছি ও লোকশান গুনতে হচ্ছে। সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নাজমুল হুদা বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার খেলে পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, খাদ্যবিষক্রিয়া এমনকি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি। তিনি ঈদে খাবার কেনার ক্ষেত্রে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারাহ্ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, ভেজাল পণ্য বিক্রির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বাজার মনিটরিংয়ের সময় প্রমাণ মিললেই তৎক্ষণাৎ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য মাঠে কাজ করছেন ভ্রাম্যমান আদালত। জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বলেন, ভেজাল ও অননুমোদিত কারখানার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।