কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে একটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিচালিত হচ্ছে।
১৯৮৩ সালে নির্মিত এই পুরাতন ভবনটি বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও এখানেই আদালতের সব কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ফলে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও আদালত সংশ্লিষ্ট সবাই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০১৩ সালে জেলা জজ আদালত ভবন, কুষ্টিয়া থেকে আদালতটি দৌলতপুর উপজেলা চত্বরে পুনরায় এই ভবনে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে কোনো বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় ভবনটির ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বিশেষ করে প্রবেশ গেটের উপরের অংশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।
আদালতের এজলাস কক্ষ, খাসকামরা ও অন্যান্য কক্ষের ছাদ ও দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি চুয়ে পড়ে। এতে মোকদ্দমার নথি, রেজিস্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাগজপত্র নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি আসবাবপত্র, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক ফ্যান ও লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ভবনে বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রবও দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ লাইনের অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
আদালতে আগত সেবাগ্রহীতাদের জন্য নেই পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা কিংবা কোনো পাবলিক টয়লেট। ফলে নারী, বৃদ্ধ ও দূরদূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
রুমগুলো ছোট হওয়ায় নতুন বছরের মামলার ফাইল সংরক্ষণেও দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। অতিরিক্ত আলমারি রাখার জায়গা না থাকায় নথিপত্র সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আইনজীবীদের জন্যও নেই কোনো আলাদা কক্ষ বা অফিস সুবিধা। সারা বছর আদালতের বারান্দায় টেবিল বসিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র ভিজে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
আদালত কর্তৃপক্ষ ভবন সংস্কারের জন্য কুষ্টিয়া জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে বারবার লিখিতভাবে জানালেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মাননীয় প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুযায়ী আদালত ভবনে সিসিটিভি স্থাপন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে ৮ মে ২০২৪ সালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। সেটিও কার্যকর হয়নি।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের অ্যাডভোকেট শামসুল হক খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার না হওয়ায় অত্যন্ত কষ্টে আদালতের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। দেয়াল ও ছাদের অবস্থা এতটাই নাজুক যে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।
আদালতের শেরেস্তাদার সাইফুল ইসলাম জানান, প্রায়ই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে এবং মোটরসাইকেল রাখার বারান্দাটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র ভিজে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। রুমগুলো ছোট হওয়ায় নতুন বছরের মামলার ফাইল সংরক্ষণেও দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। অতিরিক্ত আলমারি রাখার জায়গা না থাকায় নথিপত্র সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বারবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এমতাবস্থায় বিচারপ্রার্থী ও আদালত সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে ভবনটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।