ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (DNCC) এলাকায় বসবাসরত নগরবাসীর প্রাত্যহিক সমস্যা সমাধান এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা আরও সহজলভ্য করতে ‘নাগরিক সেবা’ নামক একটি বিশেষ অ্যাপ (App) উদ্বোধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নগর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনদুর্ভোগ লাঘব করাই এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটির মূল লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর বারিধারায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অ্যাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
কেন এই অ্যাপ? নগর জীবনের সংকট নিরসনে ডিজিটাল উদ্যোগ
উদ্বোধনী বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, “অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ঢাকা উত্তর সিটিতে সুশাসন অধরা রয়ে গেছে। মশার উপদ্রব, জলাবদ্ধতা, যানজট এবং রাস্তার খানাখন্দকের কারণে নাগরিক জীবন এখন চরম অস্বস্তিকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটি জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নগরবাসীর পাশে দাঁড়াতে এই ‘নাগরিক সেবা’ অ্যাপটি চালু করেছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে যে কেউ তাদের এলাকার সমস্যাগুলো সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারবেন, যা দ্রুত সমাধানে দলটি নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক ও সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করবে।
স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অ্যাপের মাধ্যমে কেবল অভিযোগ জানানোই নয়, বরং বিভিন্ন জরুরি সেবাও পাওয়া যাবে। সেলিম উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমরা স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে ‘মোবাইল হাসপাতাল’ (Mobile Hospital) কনসেপ্ট নিয়ে কাজ করছি। প্রায় ৫০টি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে আমাদের চুক্তি রয়েছে, যেখানে নগরবাসী স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা পাবেন। এছাড়া জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য আমাদের ১০টি সর্বাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স (Ambulance) সার্ভিস নিয়োজিত রয়েছে।”
বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্জে হাসানা প্রকল্প
ডিজিটাল এই উদ্যোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠনটি। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত জাকাতভিত্তিক ‘করজে হাসানা’ (সুদমুক্ত ঋণ) কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আগামীর মেয়র
সাম্প্রতিক নির্বাচন ও রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ঢাকা মহানগরী উত্তর আমির দাবি করেন, ডিএনসিসি এলাকায় তাদের গ্রহণযোগ্যতা আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। তিনি বলেন, “সংসদ নির্বাচনে চারটি আসনে আমাদের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন এবং শরিক দল থেকেও একটি আসন এসেছে। এটি প্রমাণ করে মানুষ আমাদের জনসেবামূলক কাজের মূল্যায়ন করছে।”
আগামী দিনের ঢাকা উত্তরের মেয়র কেমন হওয়া উচিত—সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আগামীতে এমন ব্যক্তিকে মেয়রের দায়িত্ব নিতে হবে, যিনি হবেন জনগণের জানমালের অতন্দ্র প্রহরী এবং জাতির জাগ্রত বিবেক। যিনি কেবল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে না থেকে রাতের বেলা নগরীর অলিগলি ঘুরে নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুখ-দুঃখের খোঁজ রাখবেন।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা ও মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাতসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।