রবিবার ‘মায়ের ডাক’ চলচ্চিত্রের শুভযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে বিশেষ ‘ভাতা’ চালুর ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজ কেউ মন্ত্রী হয়েছি, কেউ এমপি বা বড় আমলা হয়েছি। কিন্তু যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে গুম হয়ে গেছেন, তাদের সন্তানরা আজ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে। বিভিন্ন খাতে সরকারি ভাতা দেওয়া হলেও, এই পরিবারগুলোর জন্য এখনো আমরা কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নিতে পারিনি। আমি আজই ফিরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখব, যেন এই পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মাসিক ভাতা প্রদান করা হয়। এটি দয়া নয়, এটি তাদের প্রাপ্য।’
বক্তৃতাকালে মন্ত্রী বেশ কয়েকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন আগে রমজান মাসে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে আমরা গুম হওয়া পরিবারের সন্তানদের নিয়ে প্রথম ইফতার মাহফিল করেছিলাম গুলশানের একটি হোটেলে। আজ পাশে তুলির মা, পেছনে মুন্নার মাকে দেখে সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে। মুন্নার বাবা তার সন্তানকে খুঁজতে খুঁজতে ভারত পর্যন্ত গিয়েছিলেন, শেষে বিচার না পেয়ে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। এই যে পিতার হাহাকার, এটি ভোলার মতো নয়।’
গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির সাহসিকতার প্রশংসা করে মন্ত্রী তাকে ‘প্রকৃত হিরো’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, ‘যখন কেউ কথা বলতে ভয় পেত, তখন এই মেয়েটি একা জেনেভায় হিউম্যান রাইটস কমিশনের কাছে লড়াই করেছে। তবে আমার একটি বড় দুঃখ ও লজ্জা যে, যে মেয়েটি এত সংগ্রাম করল, তাকে আমরা নির্বাচনে জয়ী করতে পারিনি। এটি আমাদের জাতীয় ব্যর্থতা।’
নির্মাণাধীন চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘৫২-র ভাষা আন্দোলনের পর আমাদের জাতীয় সংগ্রাম নিয়ে উচ্চমানের সাহিত্য বা শিল্পকর্ম খুব একটা দেখা যায়নি। আমি আশা করি, ‘মায়ের ডাক’ চলচ্চিত্রটি সেই মান অর্জন করবে এবং আমাদের সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবে।’
বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, সবচেয়ে খারাপ লাগে কোথায় জানেন? আজকে সেই ফ্যাসিস্ট মহিলা (স্বৈরাচার শেখ হাসিনা) বিদেশে বসে এতটুকু অনুশোচনা নেই, সমানে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন, যেটাকে আমি মনে করি যে একটা ক্রিমিনাল অফেন্স। যেটা মানবতার বিরুদ্ধে একটা অফেন্স।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী গুম হওয়া পরিবারগুলোর সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।