• দেশজুড়ে
  • জমি বিক্রির নামে ব্যবসায়ী থেকে ৩২ লাখ টাকা নিয়ে এক নারীর প্রতারণা

জমি বিক্রির নামে ব্যবসায়ী থেকে ৩২ লাখ টাকা নিয়ে এক নারীর প্রতারণা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
জমি বিক্রির নামে ব্যবসায়ী থেকে ৩২ লাখ টাকা নিয়ে এক নারীর প্রতারণা

মোস্তাফিজুর রহমান টিপু জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর।

লক্ষ্মীপুর কমলনগরে নুরজাহান নামীয় এক নারী ওয়ারিশী জমি বিক্রী চুক্তি করে ৩২ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার ফান্দে ফেললেন কাউসার নামীয় এক ব্যবাসীকে। এ ঘটনায় ভূক্তভেগী কাউছার আদালতে মামলা দায়ের করেন ওই নারীর বিরুদ্ধে। মিমাংসার শর্তে জামিন নিলেও ব্যবসায়ীকে আজও জমি রেজিস্ট্রি দেয়নি প্রতারক নূরজাহান।

জেলার কমলনগর উপজেলার চরজাঙ্গালীয়া গ্রামের আমির হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান। একই উপজেলার চরলরেঞ্চ গ্রামের নুরুলহুদার কন্যা ওই নারী । ভুক্তভোগী কাউছার হোসেন ছোটন চরজাঙ্গালীয়া গ্রামের নুরজাহানের স্বামীর বাড়ীর পাশ্ববর্তী এলাকার প্রতিবেশী আবুল খায়েরের ছেলে হয়।

রবিবার (৮ মার্চ ) সরেজমিন ঘুরে ও কাগজপত্র পর্যালোচনায় জানাগেছে, নুরজাহান পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া ৬৬ শতাংশ জমি কাউছার হোসেন ছোটনের নিকট বিক্রয়ের প্রস্তাব দিলে ওই জমি ক্রয় করতে সম্মত হন তিনি। দু'পক্ষের সম্মতিতে জমির উচিত মূল্য ৩৩ লাখ টাকা নির্ধারন হয়। বায়না স্বরূপ কাউছার থেকে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে ৩২ লাখ টাকা গ্রহন করে নূরজাহান।

বায়নাচুক্তিপত্র পর্যালোচনা দেখা যায়, জেলার কমলনগর উপজেলাধীন চর জাঙ্গালিয়া মৌজার ৩০৯৪ খতিয়ানের ৯২৯৬, ৯২৯৭, ৯২৯৮ দাগ, আর.এস ৩০৯৬ খতিয়ানের ৪৫৮১১, ৪৫৮০৯ ৪৫৮১৭, ৪৫৮১৯, ৪৫৯১৭ দাগে ৬৬ শতাংশ ভূমি পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে নূরজাহান বেগম মালিক হয়ে ওই জমি তিনি বিক্রি করে ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিন'শ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বায়না চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ক্রেতা কাউছার থেকে ৩২ লাখ টাকা নগদ গ্রহন করেম। কিন্তু তিন বছর পার হলেও জমি রেজিষ্ট্রি না দেওয়ায় ভূক্তভেগী কাউছার বাদী হয়ে প্রতারক নূরজাহান ও তার কন্যা ফারহানা আক্তার পূর্ণিমার বিরুদ্ধে আদালতে সি.আর ১০৫/২৫ইং মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত রিপোর্টে দ:বি: ৪৬৫, ৪৬৮, ৪০৬, ৪১৯, ৪২০, ৫০৬ ধারায় ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালত আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী করে। মিমাংসার শর্তে আদালত আসামীগণকে জামিন দেয়। এখনও পর্যন্ত আসামীগণ বাদীকে জমি রেজিষ্ট্রি দেয়নি।

বাদী কাউছার জানান, আসামী নূরজাহান আমার থেকে ৩২ লাখ টাকা নিয়ে নানান তালবাহনা করতেছে আজও আমাকে জমি রেজিষ্ট্রী দিচ্ছেনা। তারা জামিনের শর্ত ভঙ্গ করছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বাপন চক্রবর্তী জানান, বিজ্ঞ আদালতে বাদীর দায়েরকৃত সিআর মামলার ঘটনা ও বিষয়বস্তু দীর্ঘ তদন্ত শেষে সত্যতা পেয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য নূরজাহানকে না পেয়ে তার স্বামী আমির হোসেনের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এসব ঘটনার সাথে তিনি জড়িত নন।