দক্ষিণী চলচ্চিত্রের ‘থালাপতি’ বা সেনাপতি তিনি। রূপালি পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে সম্প্রতি নাম লিখিয়েছেন সক্রিয় রাজনীতিতে। কিন্তু সাফল্যের মধ্যগগনে থাকা বিজয় থালাপাতির ব্যক্তিগত জীবন এখন উত্তাল। দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের সুর বাজতেই ভক্তদের মাঝে শুরু হয়েছিল উদ্বেগ। সেই সব জল্পনা আর বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জনসমক্ষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলেন এই মেগাস্টার।
রাজনৈতিক মঞ্চে আবেগঘন বিজয়
শনিবার (৭ মার্চ) বিজয়ের নবগঠিত রাজনৈতিক দল ‘তামিলগা ভেত্রি কাজগাম’ (TVK) আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। হলভর্তি কর্মী-সমর্থকদের সামনে ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে সরাসরি কথা বলেন ৫১ বছর বয়সী এই অভিনেতা।
বিজয় বলেন, “সম্প্রতি আমাকে ঘিরে কিছু সমস্যা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমি দেখছি, আপনারা আমার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের জবাব দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে মানসিকভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। আপনাদের এই উদ্বেগ আমাকে সবচেয়ে বেশি ব্যথিত করে। দয়া করে আমার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আপনারা কেউ চাপ নেবেন না। পরিস্থিতি যাই হোক, আমি সব সামলে নেব।” সমর্থকদের আশ্বস্ত করে তিনি আরও যোগ করেন, “আসুন আমরা মানুষের কল্যাণের দিকে মন দিই। আত্মবিশ্বাসী থাকুন, শেষ পর্যন্ত ভালো কিছুই ঘটবে।”
সংগীতার আইনি পদক্ষেপ ও আবাসন দাবি
বিজয়ের স্ত্রী সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গম ইতিমধ্যেই ভারতের হাইকোর্টে ডিভোর্সের লিখিত পিটিশন জমা দিয়েছেন। ব্রিটিশ নাগরিক সংগীতা আদালতে একটি বিশেষ আবেদনও করেছেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিভোর্স মামলার শুনানি চলাকালীন তিনি সন্তানসহ বিজয়ের বর্তমান বাসভবনেই থাকতে চান। যেহেতু ভারতে তাঁর স্থায়ী কোনো ঠিকানা নেই, তাই নিরাপত্তা ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই এই দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি যথাযথ ‘Alimony’ বা ভরণপোষণের দাবিও তুলেছেন।
২৫০ কোটি রুপির ‘Settlement’ প্রস্তাব
ভেতরের খবর বলছে, আইনি জটিলতা দীর্ঘায়িত না করে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চান বিজয়। আইনজীবীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর তিনি সংগীতাকে ২৫০ কোটি রুপি ভরণপোষণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। যদি সংগীতা এই প্রস্তাবে সম্মতি দেন, তবেই আইনিভাবে তাঁদের ২৭ বছরের দীর্ঘ বৈবাহিক সম্পর্কের চূড়ান্ত অবসান ঘটবে। এই বিপুল অংকের ‘Settlement’ নিয়ে এখন ভারতের বিনোদন ও বিজনেস মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বিচ্ছেদের নেপথ্য কারণ
১৯৯৯ সালে সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন বিজয়। তাঁদের সংসারে দুই সন্তানও রয়েছে। দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে তাঁরা ছিলেন ঢালিউডের অন্যতম ‘Power Couple’। তবে গুঞ্জন রয়েছে, অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের সঙ্গে বিজয়ের তথাকথিত পরকীয়া এবং ঘনিষ্ঠতাই সংগীতার সঙ্গে তাঁর দূরত্বের প্রধান কারণ। এই সম্পর্কের টানাপোড়েন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সংগীতা আইনি পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
আপাতত নিজের নতুন সিনেমা এবং রাজনৈতিক দল গোছানো—এই দুই ফ্রন্টেই লড়াই চালাচ্ছেন বিজয়। তবে ব্যক্তিগত জীবনের এই বড় ‘Crisis’ তিনি কতটা নিপুণভাবে মোকাবিলা করেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে তাঁর কোটি কোটি ভক্ত।