বহু বছর ধরে জমে থাকা স্থির জল আর জলাবদ্ধতার কষ্টে দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ মাঠ যেন নিঃশব্দে অপেক্ষা করে আছে মুক্তির জন্য। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় এক নতুন উদ্যোগ নিয়ে আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরে আসছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া গ্রাম থেকেই শুরু হবে খাল পুনঃখননের এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।
পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এমপি জানিয়েছেন, খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দিনাজপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে যাবে। এতে প্রায় ৬ হাজার বিঘা জমি সরাসরি সেচ সুবিধা পাবে, আর কয়েক লক্ষ কৃষক পরিবার নতুন করে আশার আলো দেখবে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং মাঠে ফিরবে প্রাণের সঞ্চার।
৮ মার্চ - ২০২৬ রবিবার সকালে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এমপি কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল এলাকা পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দেশের কৃষিকে টেকসই করতে এবং পানি ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। তিনি স্মরণ করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর সময়ের খাল খনন কর্মসূচির কথা। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর যশোরের উলসি–যদুনাথপুর বেতনা নদী পুনঃখননের মাধ্যমে তিনি এই কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। তার শাসনামলে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হয়, যার সুফলে দেশের কৃষি উৎপাদন বেড়ে যায় এবং বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে যায়। বর্তমান উদ্যোগও সেই ঐতিহাসিক ধারারই একটি নতুন অধ্যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
৮ মার্চ রবিবার বিকেলে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ বিষয়ে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ আসনের এমপি মোঃ মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ আসনের এমপি সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক,দিনাজপুর-৩ আসনের এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম,পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব এ কে এম শাহাবুদ্দিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মোঃ এনায়েত উল্লাহ,রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সকল এডিসি বৃন্দ,দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অফিস প্রধানগণ, বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ ,এসিল্যান্ড, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ বিষয়ে দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানান, কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া এলাকার খালটির দৈর্ঘ্য ১২.২ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে যাওয়া এই খাল পুনঃখনন করা হলে দিনাজপুর সদর, কাহারোল ও বিরল উপজেলার কয়েক লক্ষ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর প্রায় ৩০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা পানিতে ডুবে থাকত এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ জমির ফসল নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে জমে থাকা সেই স্থবির জলধারা আবার চলতে শুরু করবে। তখন মাঠে ফিরবে সবুজের স্পন্দন, কৃষকের পরিশ্রমের ফলনও বাড়বে। স্থানীয়দের আশা, খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে কৃষকের মাঠে শুধু ধানই বাড়বে না—বাড়বে জীবনের নিশ্চয়তা ও ভবিষ্যতের স্বপ্নও। যেন বহুদিন পর দিনাজপুরের মাটিতে আবারও শোনা যাবে সোনালি ধানের শীষের মৃদু দোলায় আশার সুর।