দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম প্রভাবশালী ‘আল্লু’ পরিবারে এখন উৎসবের আমেজ। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা আল্লু সিরিশ। দীর্ঘদিনের প্রেমিকা নয়নিকা রেড্ডির সঙ্গে শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় হায়দরাবাদে এক রাজকীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন তিনি। এই হাই-প্রোফাইল (High-profile) বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন বিনোদন ও রাজনীতি জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বর্ণিল সাজ ও আভিজাত্যের ছোঁয়া
হায়দরাবাদের একটি অভিজাত ভেন্যুতে আয়োজিত এই বিবাহ অনুষ্ঠানে আভিজাত্যের কোনো কমতি ছিল না। বিয়ের বিশেষ মুহূর্তে বরবেশে আল্লু সিরিশের পরনে ছিল সাদা রেশমি কুর্তা, যার ওপর সূক্ষ্ম সোনালি সুতোর কাজ নজর কেড়েছে সবার। তাঁর রাজকীয় লুক মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল (Viral) হয়ে যায়। অন্যদিকে, কনে নয়নিকা রেড্ডি সেজেছিলেন ল্যাভেন্ডার ও সোনালি রঙের ঐতিহ্যবাহী রেশমি শাড়িতে। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে তাঁর সাদা ও গোলাপি হিরের নেকলেস এবং কপালে ‘মাঙ্গটিকা’ তাঁর সৌন্দর্যে যোগ করেছিল এক অনন্য মাত্রা।
গোপন প্রেম থেকে রাজকীয় পরিণয়
আল্লু সিরিশ ও নয়নিকার সম্পর্কের রসায়ন নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক আগে থেকেই গুঞ্জন (Rumors) ছিল। তবে নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনকে বরাবরই প্রচারের আড়ালে রাখতে পছন্দ করতেন এই জুটি। তাঁদের প্রেমের গল্পের শুরুটা হয়েছিল ২০২৩ সালে। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে দুজনের প্রথম পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব এবং সময়ের সঙ্গে তা গভীর প্রেমে রূপ নেয়।
প্যারিসের সেই ইঙ্গিত ও জাঁকজমকপূর্ণ বাগদান
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর সম্পর্কের বিষয়টি অত্যন্ত গোপনে রাখার পর গত বছর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে ইঙ্গিত দেন সিরিশ। প্যারিসে ছুটি কাটানোর সময় একটি রোমান্টিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে তিনি তাঁর ভক্তদের মনে কৌতূহল উসকে দেন। এরপর গত ৩১ অক্টোবর পারিবারিক উপস্থিতিতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তাঁদের বাগদান (Engagement) সম্পন্ন হয়। অবশেষে সেই সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক পূর্ণতা পেল শুক্রবারের রাজকীয় বিয়ের মাধ্যমে।
তারকা খচিত আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ
সুপারস্টার আল্লু অর্জুনের ভাই হওয়ার সুবাদে সিরিশের বিয়েতে দক্ষিণি সিনেমার (South Film Industry) নামী সব তারকাদের মেলা বসেছিল। বড় ভাই আল্লু অর্জুন সপরিবারে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ছোট ভাইয়ের নতুন জীবনের আশীর্বাদ দেন। এছাড়া তেলেগু ও তামিল সিনেমার প্রথম সারির অভিনেতা, পরিচালক এবং প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তাঁদের লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী। বিয়ের ছবিগুলো বর্তমানে ইন্টারনেট দুনিয়ায় ট্রেন্ডিংয়ে (Trending) রয়েছে, যা আধুনিক বিয়ের ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল (Lifestyle) অনুসারীদের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।