রাজধানীর ব্যস্ততম রমনা এলাকায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয় সংলগ্ন ক্রসিংয়ে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় আব্দুল বারী (৩২) নামে এক মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) দিবাগত রাতে সংঘটিত এই ‘Hit-and-run’ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার তৎপরতা পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয় সংলগ্ন ক্রসিংয়ে দ্রুতগামী একটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি মোটরসাইকেলের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কাভার্ড ভ্যানটি মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে চালক আব্দুল বারী ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (DMCH) হাসপাতালের ‘Emergency Department’-এ নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশি ব্যবস্থা ও পরিচয় শনাক্তকরণ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফ জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তিনি বলেন, “ডিবি কার্যালয়ের পাশের ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘাতক কাভার্ড ভ্যানটি আমরা জব্দ করতে সক্ষম হলেও এর চালক কৌশলে পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের পকেটে থাকা ‘Driving License’ থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। আব্দুল বারীর স্থায়ী ঠিকানা নোয়াখালী জেলার সদর থানার মহব্বতপুর গ্রামে। তিনি ওই এলাকার নুরুল হকের ছেলে।
তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, রাতের ফাঁকা রাস্তায় কাভার্ড ভ্যানটি বেপরোয়া গতিতে চলার কারণে এই ‘Fatal Accident’ ঘটেছে। নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে ইতিমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। স্বজনরা ঢাকা পৌঁছালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই পয়েন্টে এমন দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিচিতজনরা। সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতের শহরে ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে পালন নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।