শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে অবৈধ জ্বালানি ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি দক্ষিণপাড়া এলাকায় এক বিশেষ অভিযানে তিনটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ সময় সরকারি সম্পদ চুরির দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের নেপথ্যে ও ম্যাজিস্ট্রেটের তদারকি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহরিয়ার পারভেজের নেতৃত্বে এই ‘মোবাইল কোর্ট’ (Mobile Court) পরিচালিত হয়। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তাদের সহায়তায় সিদ্ধিরগঞ্জের ওই এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিযানে তিনটি বড় ধরনের অবৈধ সংযোগের সন্ধান পায় কর্তৃপক্ষ।
অবৈধ সংযোগ ও জরিমানার খতিয়ান তদন্তে দেখা যায়, সরকারের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই একটি ওয়াশিং কারখানা, একটি কয়েল কারখানা এবং একটি সুতার কারখানায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস সংযোগ নিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। এ অপরাধে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
অভিযানে ‘জিসান ওয়াশিং এন্ড লন্ড্রি’ নামক ওয়াশিং কারখানাকে ৩০ হাজার টাকা এবং একটি সুতার কারখানাকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে কয়েল কারখানায় তিতাস ও প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে মালিকপক্ষের সবাই সটকে পড়ায় সেখানে কোনো জরিমানা আদায় করা সম্ভব হয়নি।
সরঞ্জাম জব্দ ও প্রশাসনিক হুঁশিয়ারি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর তিন কারখানা থেকেই বিপুল পরিমাণ অবৈধ পাইপ, রাইজার (Riser) এবং অন্যান্য ‘টেকনিক্যাল’ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস চুরি করা হচ্ছিল, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিদুর্ঘটনার কারণ হতে পারতো।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহরিয়ার পারভেজ জানান, জাতীয় সম্পদ গ্যাসের অপচয় ও চুরি রোধে জেলা প্রশাসনের এই অভিযান নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। কোনো ধরনের ‘ইললিগ্যাল কানেকশন’ (Illegal Connection) রাখা হবে না এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট নিরসন এবং বৈধ গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিতাস গ্যাসের এমন ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতিকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।