এ বছর সৈয়দপুরে পাইকারিতে কৃষকের কাছ থেকে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে আট থেকে সর্বোচ্চ ১০ টাকায়।
তবুও ক্রেতা মিলছে না। গেল বছর প্রতিকেজি আলু ১৪ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলে অনেকে আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। পরে দাম পড়ে যাওয়ায় কেউ কেউ আলু বের না করলে হিমাগার কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে আলু বের করার অনুরোধ জানান। তাতেও কৃষক লোকসান বুঝে আর সে আলুও বের করেননি।
এরপর এ বছরে শুরু হয়েছে নতুন আলু সংরক্ষণের কাজ। নীলফামারী জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সদর ও সৈয়দপুর উপজেলায় এবার ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ২২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আলুর আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদিত আলুর জাতগুলো হচ্ছে সানসাইন, গ্রানুলা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, বারি-৪১, বারি-৫৩, বারি-৬৩, স্টিক, রোমানা, সাজিতা প্রভৃতি।
পুরোদমে শুরু হয়েছে আলু তোলার কাজ।
কৃষকরা পুরুষ শ্রমিকদের দিন হাজিরায় ৫০০ টাকা ও নারী শ্রমিকদের ৩০০ টাকা মজুরিতে আলু তোলাচ্ছেন। জেলায় পুরোদমে শুরু হয়েছে আলু তোলার কাজ। ফলে এক বিঘা জমিতে আলু আবাদে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু জমি থেকে পাইকাররা প্রতি কেজি আলু মাত্র আট/১০ টাকায় কিনছেন। তাই বর্তমানে এক বিঘা জমির আলু বিক্রি করে মাত্র আট/১০ হাজার টাকা মিলছে। আলু ক্ষেত সৈয়দপুর উপজেলার একটি পৌরসভাসহ পাঁচটি ইউনিয়নে এবারও বিস্তীর্ণ জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছে। উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কোরাণীপাড়ার কৃষক মতিয়ার রহমান জানান, আমি এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে (৬০ শতাংশে বিঘা) জমিতে স্টিক জাতের আলুর আবাদ করেছি। বীজ আলু কেনা, কীটনাশক স্প্রে, সার ও সেচ এবং কৃষি শ্রমিকের ব্যয় ধরে বর্তমানে যে দাম মিলছে, তাতে আসল টাকাই ঘরে আসবে না।
একই এলাকার আরেক আলু চাষি সাইদুর রহমান জানান, এক কেজি আলু বিক্রি করে এক কাপ চা মিলছে না। কৃষকের সমস্যার শেষ নেই। এ আলু তুলে আবার ইরি-বোরো লাগাতে হবে। তাই জমি থেকে আলু তুলতে হচ্ছে।