রাজউকের প্লট নিতে ‘অনিয়মের’ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা সাবেক এই প্রধান বিচারপতি এর আগে ৮ মার্চ চার মামলায় জামিন পান।
বুধবার দুদকের এ মামলায় তার জামিন আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের বেঞ্চ জামিনের রায় দেয়।
রায় জালিয়াতি, হত্যা ও দুর্নীতিসহ পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন খায়রুল হক। এখন বাকি মামলায় জামিন হওয়ায় তার কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী মোতাহের হোসেন সাজু।
এদিন খায়রুল হকের জামিন আবেদনের শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান খান ও মোতাহার হোসেন সাজু এবং আইনজীবী মোনায়েম নবী। দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন এম সারোয়ার হোসেন।
মোতাহার হোসেন বলেন, “এখন তার কারামুক্তিতে আইনগত বাধা নেই যদি সরকার আর কোনো কিছু না করে আরকি। তারাতো একটাতে জামিন হলে আরেকটা দিয়ে দেয়।”
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে করা পৃথক চার মামলায় হাই কোর্টের অন্য একটি দ্বৈত বেঞ্চ ৮ মার্চ খায়রুল হককে জামিন দেন।
এই পাঁচ মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে হাই কোর্টে পৃথক পাঁচটি জামিন আবেদন করেন।
এই পাঁচ মামলায় জামিন আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর হাই কোর্ট জামিন প্রশ্নে রুল দেয়। এর মধ্য দিয়ে খায়রুল হকের পাঁচটি মামলায় জামিন আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে।
খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়। এই রায়ের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।