একটি কুরিযার সর্ভিসের কয়েকটি গাড়িতে অবৈধভাবে তেল দেওয়ার সময় পুলিশ ডিজেল বোঝাই একটি ট্যাংক লরি আটকের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
বুধবার ভোরে রাজধানীর হাজারীবাগ থানা এলাকার বেড়িবাঁধ (সদরঘাট-গাবতলী সড়ক) থেকে আট হাজার লিটার জ্বালানি তেলসহ লরিটি আটক করা হয়।
এই লরিতে থাকা তেল সিকাদার গ্রুপের জে এম এক্সপ্রেস ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিস স্টেশনের বলে হাজারীবাগ থানার এসআই সুমন চন্দ্র শীল জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় গত কয়েক দিনে পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ঢাকায় তেল বিক্রি ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার খবর আসে।
এই পরিস্থিতিতে গত ৬ মার্চ ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি।
ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার, ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার, এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত অকটেন বা পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছে।
ডিজেলচালিত পিকআপ ও লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনারবাহী যানবাহনে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এরপর অনিয়ম, মজুদদারি ও বেশি দামে বিক্রি ঠেকাতে জেলা প্রশাসকদের মোবাইল কোর্ট চালানোর নির্দেশ দেয় সরকার। অবৈধ মজুদ, বেশি দাম নেওয়া ও চোরাচালান ঠেকাতে এই অভিযান পরিচালনার কথা বলা হয়।
হাজারীবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাহাদত হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ডিজেল বোঝাই ওই লরিটি নির্ধারিত পাম্পে না গিয়ে এ জে আর নামের একটি কুরিয়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজে ঢুকে তাদের গাড়িতে তেল দেওয়ার সময় লরিটি আটক করা হয়।
থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সংকট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মওজুদ করার অভিযোগে পাম্পের মালিক সালাউদ্দিন খান, ম্যানেজার ফরিদ হাসান, লরি চালক আনোয়ার হোসেন ছাড়াও এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
৮ হাজার লিটার তেলসহ লরি জব্দ করে আদালতকে জানানো হয়েছে। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি তুলে ধরে ওসি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে জড়িতরা পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে এ জে আর প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে পার্সেল ইনচার্জ মর্তুজা ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
মর্তুজা ভূঁইয়া বলেন, তাদের প্রায় চার শতাধিক গাড়ি রয়েছে। ওয়্যারহাউজে থাকা গাড়িগুলোতে তেল দেওয়ার সময় পুলিশ এসে অভিযান চালায়।
“বিভিন্ন গাড়িতে তারা (জে এম এক্সপ্রেস ফিলিং স্টেশন) তেল দেওয়ার পাশপাশি আমাদের গাড়িগুলোতেও তেল দিয়ে আসছিল।”
জে এম এক্সপ্রেস ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিস স্টেশনের ম্যানেজার ফরিদ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগর চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।