কক্সবাজারের রামুতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে দুই শিশু। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহীদ এটিএম জাফর আলম আরাকান সড়কে (কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক সড়ক) একটি দ্রুতগামী মিনিট্রাক ও অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে (Head-on Collision) এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই এক শিশুর মৃত্যু হয় এবং পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রাণ হারায় আরও একজন।
রক্তাক্ত বিকেলের নেপথ্যে
রামু হাইওয়ে ক্রসিং থানার পুলিশ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের মির্জা আলীর দোকান এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। কক্সবাজার অভিমুখী একটি মিনিট্রাক বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দিলে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সৃষ্টি হয়। অটোরিকশাটি ট্রাকের ধাক্কায় ছিটকে গিয়ে খাদে পড়ে যায়।
শোকের ছায়া পালংখালীতে
এই দুর্ঘটনায় নিহতরা হলো— উখিয়া উপজেলার পালংখালী এলাকার ফরিদুল ইসলামের ৭ বছর বয়সী কন্যা বুসরা এবং একই এলাকার নুরুল আলমের ১৪ বছর বয়সী কন্যা জান্নাতুল মাওয়া মনি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুসরা দুর্ঘটনাস্থলেই ‘স্পট ডেড’ (Spot Dead) হয়। অন্যদিকে জান্নাতুল মাওয়া মনিকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (Chittagong Medical College) নেওয়ার পথে ঈদগাঁও এলাকায় তার মৃত্যু ঘটে।
আহতদের অবস্থা ও চিকিৎসা
দুর্ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ আরও তিন জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন— নিহতদের নিকটাত্মীয় উম্মে হাবিবা বিউটি (২৬) এবং তার ৬ বছর বয়সী কন্যা ফায়জা বিনতে ফয়সাল। এছাড়া অটোরিকশা চালক মোহাম্মদ সাঈদী (২৭) বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্ট (Emergency Department) থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহতদের চট্টগ্রামে রেফার করা হলেও পথে আরও এক শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।
উদ্ধার অভিযান ও পুলিশের পদক্ষেপ
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হাইওয়ে পুলিশের একটি দল। পুলিশ ঘাতক মিনিট্রাক ও দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশা দুটি জব্দ করেছে। হাইওয়ে থানার পরিদর্শক নাছির উদ্দিন জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ বর্তমানে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
কক্সবাজার-টেকনাফ হাইওয়েতে (Highway) প্রতিনিয়ত এমন দুর্ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে দ্রুতগতির ভারী যানবাহন ও ছোট যানবাহনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবই এই প্রাণহানির প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।