পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের স্বস্তির যাত্রা নিশ্চিত করতে আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষ ঈদযাত্রা। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রিয়জনদের কাছে ফেরার এই মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে দেশের প্রধান রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের এই স্রোতকে নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
ধূমকেতু এক্সপ্রেসের মাধ্যমে ঈদযাত্রার সূচনা শুক্রবার ভোর ৬টায় ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ‘ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ (৭৬৯)-এর মাধ্যমে এবারের বিশেষ ঈদযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কেবল বিশেষ ট্রেনই নয়, নিয়মিত শিডিউলে থাকা দেশের প্রতিটি Intercity বা আন্তঃনগর এবং মেইল ট্রেনগুলোকেও বিশেষ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হয়েছে। গত ৩ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত যারা অগ্রিম Ticket সংগ্রহ করেছিলেন, আজ তারাই প্রথম ধাপে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আগামী ২০, ২১ ও ২২ মার্চের ফিরতি টিকিট বিক্রির সময়সূচীও নির্ধারিত রয়েছে।
নিরাপত্তায় ‘জিরো টলারেন্স’ ও স্টেশনে কড়াকড়ি বিনা টিকিটে ভ্রমণ (Ticketless Travel) বন্ধ করতে এবং ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে এবার নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ঢাকা, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। জিআরপি (GRP), আরএনবি (RNB), বিজিবি ও র্যাবের পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’—এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে কাউন্টার এবং প্রবেশপথে কড়াকড়িভাবে টিকিট যাচাই করা হচ্ছে।
নাশকতা রোধে বিশেষ নজরদারি সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় রেললাইন এবং চলন্ত ট্রেনে নাশকতা বা স্যাবোটাজ (Sabotage) প্রতিরোধে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রেলওয়ে সিগন্যাল ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আরএনবি ও রেলওয়ে কর্মচারীদের তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ বিধিনিষেধ ঈদের আগ মুহূর্তে যাত্রীদের চাপ সামলাতে কিছু বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রেলওয়ে। আগামী ১৬ মার্চ থেকে জয়দেবপুর স্টেশন থেকে ঢাকামুখী এবং ঢাকা থেকে জয়দেবপুরগামী কোনো আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট ইস্যু করা হবে না। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে ঢাকা-বিমানবন্দর রুটের ক্ষেত্রেও। মূলত দূরপাল্লার যাত্রীদের আসন নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। এছাড়া ভিড় এড়াতে এবং ইঞ্জিনের ওপর চাপ কমাতে ঈদের ১০ দিন আগে থেকে এবং ঈদের পরবর্তী ১০ দিন পর্যন্ত কোনো ‘সেলুন কার’ (Salon Car) সংযোজন করা হবে না।
যাত্রীসেবায় রেলওয়ের প্রতিশ্রুতি রেল ভবনে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় জানানো হয়, সিডিউল বিপর্যয় রোধে প্রতিটি জংশনে অতিরিক্ত ইঞ্জিন এবং জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাত্রীরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য প্রতিটি বড় স্টেশনে তথ্যকেন্দ্র ও মেডিকেল টিম সক্রিয় থাকবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের এই সুপরিকল্পিত উদ্যোগের ফলে এবারের ঈদযাত্রা গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি আরামদায়ক ও নিরাপদ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।