মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আকাশপথে চলাচলে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও ধাপে ধাপে কার্যক্রম স্বাভাবিক করার সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ (Qatar Airways)। আন্তর্জাতিক এভিয়েশন রুটে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে আগামী ১৩ মার্চ থেকে ১৭ মার্চের মধ্যে অন্তত ১৪৩টি বিশেষ ফ্লাইট (Special Flights) পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে কাতারভিত্তিক এই বিমান সংস্থাটি। দোহায় আটকে পড়া বিদেশি নাগরিকদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আটকা পড়া কাতারি নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনাই এই বিশেষ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।
রুদ্ধদ্বার আকাশপথ ও প্রত্যাবাসন মিশন বর্তমানে কাতারের আকাশপথ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ থাকলেও বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে ‘Repatriation’ বা প্রত্যাবাসন ফ্লাইট পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকেই সীমিত পরিসরে এই বিশেষ অপারেশন শুরু হয়। কাতার এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধাবস্থায় মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং বৈশ্বিক ‘Connectivity’ বজায় রাখতে তারা এই চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার ভোরে সংস্থাটি তাদের বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করে, যেখানে ঢাকার নামও গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্লাইট শিডিউল: ঢাকা ও বিশ্বজুড়ে যাতায়াত কাতার এয়ারওয়েজের প্রকাশিত নতুন সময়সূচি অনুযায়ী আগামী কয়েকদিনের ফ্লাইট পরিকল্পনা নিচে তুলে ধরা হলো:
১৩ মার্চ: যাত্রার শুরু
দোহা থেকে প্রস্থান: ঢাকা (Dhaka), পার্থ, সিউল, জেদ্দা, কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক, কোচি, মিয়ামি, আলজিয়ার্স, ইস্তাম্বুল, কায়রো, আমস্টারডাম, লন্ডন, মিলান, প্যারিস ও মাসকাট।
দোহায় আগমন: লন্ডন, প্যারিস, মুম্বাই, দিল্লি, ইসলামাবাদ, কলম্বো, নিউইয়র্ক (New York), সাও পাওলো, বেইজিং, ম্যানিলা, জাকার্তা ও কায়রো।
১৪ মার্চ: ব্যাপক তৎপরতা
দোহা থেকে প্রস্থান: রিয়াদ, ম্যানিলা, জোহানেসবার্গ, মাসকাট, ডালাস (Dallas), টরন্টো, কলম্বো, মুম্বাই, ইসলামাবাদ, লন্ডন, রোম, মাদ্রিদ, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মস্কো ও বালি ডেনপাসার।
দোহায় আগমন: ঢাকা (Dhaka), পার্থ, সিউল, জেদ্দা, কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক, কোচি, আলজিয়ার্স, মিয়ামি, ইস্তাম্বুল, কায়রো, লন্ডন, মাদ্রিদ ও ফ্রাঙ্কফুর্ট।
১৫ মার্চ: ট্রানজিট ও সংযোগ
দোহা থেকে প্রস্থান: ঢাকা (Dhaka), ইস্তাম্বুল, কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক, মেলবোর্ন, নিউইয়র্ক, জেদ্দা, মাদ্রিদ, হংকং (Hong Kong), লন্ডন, কাসাব্লাঙ্কা, প্যারিস ও ইসলামাবাদ।
দোহায় আগমন: মাসকাট, তিউনিস, ম্যানিলা, ডালাস, টরন্টো, কলম্বো, কায়রো, ইসলামাবাদ, মুম্বাই, রোম, লন্ডন, কাসাব্লাঙ্কা, দিল্লি ও পার্থ।
১৬ মার্চ: স্বাভাবিকতার পথে
দোহা থেকে প্রস্থান: ঢাকা (Dhaka), পার্থ, মাসকাট, সিউল, ব্যাংকক, বেইজিং, কোচি, জাকার্তা, মুম্বাই, কায়রো, মিয়ামি, আমস্টারডাম, লন্ডন, কলম্বো, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও দিল্লি।
দোহায় আগমন: ঢাকা (Dhaka), ইস্তাম্বুল, কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক, দিল্লি, জেদ্দা, নিউইয়র্ক, হংকং, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও লন্ডন।
সংকটকালীন এভিয়েশন ও লজিস্টিকস কাতার এয়ারওয়েজের এই বিশেষ উদ্যোগকে ‘Crisis Management’ বা সংকট ব্যবস্থাপনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আকাশপথে ঝুঁকির মাঝেও এমন বৃহৎ পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনা তাদের ‘Global Network’-এর সক্ষমতাকেই তুলে ধরছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এই ঘোষণা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ট্রানজিট (Transit) হয়ে ঢাকা ফেরার ক্ষেত্রে কাতার এয়ারওয়েজ একটি প্রধান মাধ্যম।
এভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশেষ ফ্লাইটগুলো কেবল যাত্রী পরিবহনই নয়, বরং জরুরি ওষুধ ও মানবিক সহায়তা সামগ্রী পরিবহনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন সাপেক্ষে যেকোনো সময় এই সূচি পুনর্নির্ধারিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।