সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকাশে জ্বলন্ত বস্তু উড়ে যাওয়ার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর আদানার কাছে অবস্থিত ইনসিরলিক এয়ারবেস অবস্থিত। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সদস্যরাও অবস্থান করছেন। শুক্রবার ভোরে এই ঘাঁটিতে সাইরেন বেজে ওঠে। স্থানীয় সময় প্রায় ভোর ৩টা ২৫ মিনিটে কয়েক মিনিট ধরে এই সতর্কতা সাইরেন শোনা যায় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
ঘটনার সময় ঘাঁটিটিতে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। আদানা শহরের বাসিন্দারা জানান, তারা আকাশে জ্বলন্ত একটি বস্তু উড়ে যেতে দেখেছেন, যা সম্ভবত এয়ারবেসের দিকে ছুটে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে আকাশে জ্বলতে থাকা একটি বস্তুর কিছু অংশ পরে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, এগুলো সম্ভবত একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ যা বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে জ্বলে উঠেছিল এবং পরে তার অংশ মাটিতে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
এদিকে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের দিক থেকে এটি তৃতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা বলে জানা গেছে। এর আগে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিহত করা হয় এবং সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ তুরস্কের ভেতরে পড়ে।
এর আগে ন্যাটো জানিয়েছিল, তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। ওই ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গাজিয়ানতেপ প্রদেশের একটি খালি জমিতে পড়ে, তবে এতে কোনো হতাহত হয়নি।
তুরস্কের কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন, ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্ভবত ইনসিরলিক এয়ারবেসে অবস্থানরত ন্যাটো বাহিনীকে লক্ষ্য করেই ছোড়া হয়েছিল।