মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতময় পরিস্থিতির জেরে বাহরাইনে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারের বিশেষ উদ্যোগে এবং মানামাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আগামী ২০ মার্চ একটি ‘Special Flight’-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাহরাইন থেকে সরাসরি আকাশপথের জটিলতা এড়াতে প্রবাসীদের প্রথমে সড়কপথে সৌদি আরবের দাম্মাম নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখান থেকে গালফ এয়ারের (Gulf Air) ফ্লাইটে করে তারা ঢাকায় পৌঁছাবেন।
উদ্ধার অভিযানের নেপথ্য ও রুট ম্যাপ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল প্রেক্ষাপটে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি বাহরাইনে আটকা পড়েছেন। তাদের নিরাপত্তা ও প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস গালফ এয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই বিশেষ বিমান পরিচালনার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। এই প্রক্রিয়ায় যাত্রীদের বাহরাইন থেকে সৌদি আরবের দাম্মাম এয়ারপোর্ট পর্যন্ত বাসে করে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকেই মূলত চূড়ান্ত ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও জরুরি সময়সীমা বিশেষ এই ফ্লাইটে দেশে ফিরতে ইচ্ছুক প্রবাসীদের জন্য নিবন্ধনের (Registration) সময় অত্যন্ত সীমিত রাখা হয়েছে। আগ্রহী যাত্রীদের আগামীকাল ১৬ মার্চ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া নির্ধারিত ‘Google Link’-এ গিয়ে তথ্য প্রদান করতে হবে। দূতাবাস জানিয়েছে, আবেদনের পর আসনের (Seat) প্রাপ্যতা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে গালফ এয়ার কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর। আসন নিশ্চিত হলে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ সরাসরি যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।
ভাড়া ও আনুষঙ্গিক সুবিধা এই বিশেষ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মাথাপিছু টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে আনুমানিক ৩০০ বাহরাইনি দিনার। তবে এই ভাড়ার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বেশ কিছু অতিরিক্ত সুবিধা:
ট্রানজিট সুবিধা: বাহরাইন থেকে সৌদি আরবের দাম্মাম পর্যন্ত বাসে যাতায়াতের খরচ।
ভিসা প্রক্রিয়া: সৌদি আরবের প্রয়োজনীয় ‘Transit Visa’ ফি এই ভাড়ার মধ্যেই ধরা হয়েছে।
ব্যাগেজ সুবিধা: প্রত্যেক যাত্রী সর্বোচ্চ ২৩ কেজির একটি মেইন ব্যাগেজ এবং একটি হ্যান্ড ব্যাগ সাথে বহন করতে পারবেন।
দূতাবাসের বিশেষ নির্দেশনা মানামাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভ্রমণের তারিখ ২০ মার্চ বা তার নিকটবর্তী সময়ের মধ্যে সমন্বিত হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের ধৈর্য ধারণ করার এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনলাইন ফর্ম পূরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিয়মিত ফ্লাইটের সংকটের কারণে এই বিশেষ ফ্লাইটটি আটকে পড়া রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য স্থানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের বিষয়েও নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও বিশেষ ফ্লাইট বা উদ্ধার তৎপরতা (Evacuation) চালানো হবে।