একইসঙ্গে দেশের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সাধারণ মানুষের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় ‘শাহাপাড়া খাল’ পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ শাহাপাড়া খালটির খনন কাজ শেষ হলে এলাকার প্রায় ৩৩ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন।
এর মাধ্যমে ১২০০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে এবং এলাকার সাড়ে তিন লাখ মানুষ নানাভাবে এই খালের সুবিধা ভোগ করবেন। এতে এই এলাকায় আগের চেয়ে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন বেশি ফসল উৎপাদিত হবে। শুধু খাল খননই নয়, খালের দুই পাড়ে সাত হাজার বৃক্ষরোপণ এবং মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণেরও ঘোষণা দেন তিনি। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে কথা দিয়েছিলাম ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করবো।
সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আমরা সুদসহ সেই কৃষি ঋণ মওকুফের ব্যবস্থা করেছি। দেশের চার কোটি পরিবারের মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার মায়ের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আগামী মাস থেকে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।
উত্তরাঞ্চলের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় কৃষিপ্রধান এলাকা। এখানকার বেকার যুবক ও নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য ইপিজেডগুলোতে কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঈদের পর এ বিষয়ে বড় বড় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আমরা বসবো।
বিএনপি সরকারকে ‘কৃষকবান্ধব’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য হলো মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করা। আজকে যে মানুষটি মাসে পাঁচ হাজার টাকা আয় করে, আগামী দুই থেকে চার বছরের মধ্যে তার আয় যেন ১০ হাজার টাকায় পৌঁছায়, আমরা সেই পলিসি নিয়েই কাজ করছি।
কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে। দেশের উন্নয়ন ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনগণের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সমর্থন ছাড়া দেশের উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব নয়। জনগণই হচ্ছে আমাদের সব ক্ষমতার উৎস। এই দেশের মানুষই একাত্তর সালে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে এবং ২৪ সালে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচার বিদায় করেছে। এ মানুষগুলোই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। তবে বিভিন্ন রকম মিষ্টি কথা বলে যারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান তুলে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।