• দেশজুড়ে
  • চুয়াডাঙ্গায় শিউরে ওঠা অপরাধ: নিজ সন্তানের গলায় হাসুয়া ঠেকিয়ে মুক্তিপণ দাবি বাবার, পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ২

চুয়াডাঙ্গায় শিউরে ওঠা অপরাধ: নিজ সন্তানের গলায় হাসুয়া ঠেকিয়ে মুক্তিপণ দাবি বাবার, পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ২

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
চুয়াডাঙ্গায় শিউরে ওঠা অপরাধ: নিজ সন্তানের গলায় হাসুয়া ঠেকিয়ে মুক্তিপণ দাবি বাবার, পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ২

প্রবাসিনী স্ত্রীর কাছে টাকা হাতাতে ৮ বছরের শিশুকে অপহরণ করে হত্যার হুমকি; শ্বাসরুদ্ধকর ‘রেসকিউ অপারেশন’-এ অপহৃত শিশু উদ্ধার, উদ্ধার হয়েছে মুক্তিপণের টাকাও।

পারিবারিক সম্পর্কের চরম অবক্ষয় ও লালসার এক বীভৎস চিত্র ফুটে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে। নিজের আট বছর বয়সী শিশুপুত্রকে অপহরণ করে তার গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রবাসিনী স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগে পাষণ্ড বাবা ও তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে জীবননগর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (DB) এক যৌথ ‘রেসকিউ অপারেশন’-এ অপহৃত শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার নেপথ্য: সাজানো অপহরণ ও নৃশংস হুমকি পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম শিশু সিয়ামের মা বর্তমানে জীবিকার তাগিদে ভারতে অবস্থান করছেন। এই সুযোগে শিশুটির বাবা আজিজুল (২৮) তার সহযোগী আক্তারকে (২৬) নিয়ে একটি নৃশংস পরিকল্পনা সাজান। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আজিজুল নিজ সন্তানকে অপহরণ করে একটি নির্জন বাগানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। সেখানে শিশুটির গলায় ধারালো হাসুয়া ঠেকিয়ে ছবি তুলে তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তার মায়ের কাছে পাঠানো হয়।

ছবি পাঠিয়ে প্রবাসিনী মায়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ (Ransom) দাবি করে আজিজুল। টাকা না দিলে শিশুটিকে জবাই করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। সন্তানের জীবনের মায়ায় দিশেহারা মা তাৎক্ষণিকভাবে ‘বিকাশ’ (bKash)-এর মাধ্যমে ১০ হাজার ৩০০ টাকা পাঠান।

পুলিশের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান ও উদ্ধার ঘটনাটি পুলিশের গোচরীভূত হওয়ার পরপরই চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার (SP) মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে জীবননগর থানা ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নামে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জীবননগর থানাধীন পাকা দাসপাড়া এলাকায় চিরুনি অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালীন পাষণ্ড বাবা আজিজুল ও তার সহযোগী আক্তারকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তাদের জিম্মিদশা থেকে আট বছরের শিশু সিয়ামকে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই উদ্ধার করা হয়।

আলামত জব্দ ও আইনি পদক্ষেপ গ্রেফতারের সময় আসামিদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত সেই ধারালো হাসুয়া এবং মুক্তিপণ আদায়ে ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া সিয়ামের মায়ের পাঠানো মুক্তিপণের টাকার মধ্যে অবশিষ্ট ৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আজিজুল সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার মুরারীকাটি এলাকার বাসিন্দা এবং তার সহযোগী আক্তার জীবননগর থানার দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জীবননগর থানায় একটি নিয়মিত অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় একটি বড় ধরনের ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব হলেও, নিজ সন্তানের নিরাপত্তা যখন খোদ বাবার হাতেই বিঘ্নিত হয়, তা স্থানীয় জনমনে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। চুয়াডাঙ্গা পুলিশ বিভাগ এই ঘটনাকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে দেখার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।