ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামে রহিম তালুকদার গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সংঘাতের মূলে রয়েছে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কার একটি ঘটনা। নির্বাচনের দিন গোয়ালনগর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপি সমর্থক জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। জিয়াউর রহমান সন্দেহ করেন যে, কাসেম মিয়ার গোষ্ঠীর শিশু মিয়া তাকে ধরিয়ে দিয়েছেন। এই সন্দেহের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষ ও হতাহত সম্প্রতি জিয়াউর রহমান শিশু মিয়াকে আটকে রেখে মারধর করেন এবং তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবারও দুই পক্ষ এক দফা সংঘর্ষে জড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন টেঁটা, বল্লমসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর সদস্য আক্তার মিয়া টেঁটাবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পূর্ববিরোধের জেরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে এবং জড়িতদের আটকে অভিযান চালাচ্ছে।