নিহতারা হলেন- গোয়ালনগর গ্রামের আক্তার মিয়া (৫০) ও গোয়ালনগর মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান (৪০)।
এর আগেও গত মঙ্গলবার এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর পর থেকে উভয়পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উত্তেজনা চলে আসছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপির সমর্থক গোয়ালনগর গ্রামের রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ নিয়ে জিয়াউর রহমান একই গ্রামের কাসেম মিয়ার গোষ্ঠীর শিশু মিয়াকে সন্দেহ করতে থাকে এবং প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠে। সম্প্রতি জিয়াউর গোয়ালনগর গ্রামে শিশু মিয়াকে তার মোটরসাইকেলসহ আটক করে মারধর করে এবং মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয়।
এ নিয়ে গত মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রহিম তালুকদার গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর লোকজনদরে মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরই জের ধরে মঙ্গলবার সকালে ফের রহিম গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর হাজারো লোকজন রামদা, টেঁটা, বল্লমসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। ইউনিয়নের গোয়ালনগর স্কুলপাড়া, লালুয়ারটুকু, দক্ষিণদিয়া, শিবপুর, জামারবালি, মাইজখোলা, কদমতলী, গোয়ালনগর, মাছমা, রামপুর গ্রামগুলো দুই গোষ্ঠীর পক্ষ নিয়ে সংঘর্ষে অংশ নেয়। ৪ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলাকালে প্রথমে রহিম গোষ্ঠীর আক্তার মিয়া নিহত হয়। এসময় ঝগড়া থামাতে গিয়ে হাবিবুর রহমান নামে স্থানীয় মসজিদের এক ইমাম গুরুতর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম বলেন, দুইপক্ষে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের লোকজন অংশগ্রহণ করেছে।
নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে দুইজন চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে দু'পক্ষের লোকজন সকাল থেকে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুইজন নিহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।