• দেশজুড়ে
  • ঘরে ঢুকে ‘পুলিশ’ পরিচয়ে তাণ্ডব: বাগেরহাটে নববিবাহিত কলেজছাত্রকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা

ঘরে ঢুকে ‘পুলিশ’ পরিচয়ে তাণ্ডব: বাগেরহাটে নববিবাহিত কলেজছাত্রকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ঘরে ঢুকে ‘পুলিশ’ পরিচয়ে তাণ্ডব: বাগেরহাটে নববিবাহিত কলেজছাত্রকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা

চিতলমারীতে দুর্ধর্ষ হামলায় প্রাণ হারালেন আমির হামজা; মোটরসাইকেলে আসা হেলমেটধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাথায় বিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু, জেলাজুড়ে চরম আতঙ্ক

বাগেরহাটের চিতলমারীতে প্রকাশ্য দিবালোকে এক দুঃসাহসিক ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘরে ঢুকে ‘পুলিশ’ পরিচয়ে ধাওয়া দিয়ে আমির হামজা (২৩) নামে এক কলেজছাত্রকে অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে উপজেলার শিবপুর গ্রামে সংঘটিত এই Execution-style হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ও চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। নিহত আমির হামজা খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং পাশাপাশি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। মাত্র দুই মাস আগে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে, বিকেল ৪টার দিকে আমির হামজা নিজ বাড়ির উঠানে বাবা রুহুল আমিন মুন্সি ও চাচার সঙ্গে কথা বলছিলেন। এমন সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে হেলমেট পরিহিত ৬ জন যুবক অতর্কিত বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। দুর্বৃত্তরা নিজেদের ‘পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে আমির হামজাকে লক্ষ্য করে ধাওয়া দেয়।

আতঙ্কিত আমির হামজা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বাড়ির পাশের খালের পাড়ে তিনি পড়ে গেলে ঘাতকরা তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর দ্রুত মোটরসাইকেলে করে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুরো বিষয়টি চোখের পলকে ঘটে যাওয়ায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েন নিহতের স্বজনরা।

তদন্তে নামছে বিশেষায়িত ইউনিট ঘটনার পরপরই এলাকাটি ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামীম হোসেন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জেলা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই (PBI), সিআইডি (CID) এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (DB) ইতোমধ্যে ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করতে এবং তাদের পালানোর রুট ট্র্যাকিং করতে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জেলায় বেড়ে চলা অপরাধপ্রবণতা ও উদ্বেগ এই হত্যাকাণ্ডটি বাগেরহাটে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অপরাধের দীর্ঘ তালিকায় নতুন সংযোজন। এর আগে গত ৭ মার্চ মোল্লাহাটের কাহালপুর এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক যুবককে উদ্ধার করা হয়। ঠিক সাত দিন পর, ১৪ মার্চ রাতে সদর বাজারে সোহাগ শেখ নামে এক ব্যবসায়ীকে একইভাবে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। একের পর এক Targeted Killing-এর ঘটনায় জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি বা গ্রেফতার না থাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

পারিবারিক ট্র্যাজেডি নিহত আমির হামজার পরিবারে এখন কান্নার রোল। মাত্র দুই মাস আগে তন্নী আকতারের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। একাধারে পড়াশোনা ও চাকরির মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে বিভোর এই তরুণের এমন অকাল ও নৃশংস মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। এটি কি কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি এর পেছনে বড় কোনো Criminal Syndicate জড়িত, তা উদঘাটন করাই এখন পুলিশের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই দুর্ধর্ষ হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

Tags: law and order bangladesh crime student murder shooting incident criminal investigation khulna news bagerhat news targeted killing chitalmari crime police disguise