• দেশজুড়ে
  • তেলের কালোবাজারি রুখতে সাতক্ষীরায় নতুন নিয়ম: ডিসির ‘ফুয়েল কার্ড’ ছাড়া মিলবে না তেল

তেলের কালোবাজারি রুখতে সাতক্ষীরায় নতুন নিয়ম: ডিসির ‘ফুয়েল কার্ড’ ছাড়া মিলবে না তেল

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
তেলের কালোবাজারি রুখতে সাতক্ষীরায় নতুন নিয়ম: ডিসির ‘ফুয়েল কার্ড’ ছাড়া মিলবে না তেল

৫ দফা শর্তে কঠোর হচ্ছে জেলা প্রশাসন; হেলমেট ও বৈধ কাগজপত্র বাধ্যতামূলক করে জ্বালানি বিক্রিতে শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগ

সাতক্ষীরা জেলায় জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ এবং ব্লাক মার্কেটিং (Black Marketing) রুখতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এখন থেকে মোটরসাইকেলে তেল সংগ্রহের জন্য জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সিল ও স্বাক্ষর সম্বলিত বিশেষ ‘ফুয়েল কার্ড’ (Fuel Card) প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাম্প মালিকদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং জ্বালানি খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এই হার্ডলাইন পজিশন নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? জেলা প্রশাসনের কাছে আসা বিভিন্ন অভিযোগ থেকে জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট চক্র একই মোটরসাইকেল ব্যবহার করে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে দফায় দফায় তেল সংগ্রহ করছে। পরবর্তীতে সেই তেল সংগ্রহ করে খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এই অবৈধ ব্যবসা বা ব্লাক মার্কেটিং বন্ধ করতেই ‘ফুয়েল কার্ড’ সিস্টেম প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে এবং দ্রুতই এটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা হবে।

তেল বিক্রিতে ৫টি কঠোর শর্ত বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় ৫টি সুনির্দিষ্ট শর্তারোপ করা হয়েছে:

১. সময়সীমা নির্ধারণ: প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার সব ফিলিং স্টেশন থেকে মোটরসাইকেলে তেল নেওয়া যাবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো পাম্প বা ডিলার পয়েন্ট থেকে জ্বালানি সরবরাহ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: তেল নেওয়ার সময় চালককে অবশ্যই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং হালনাগাদ ট্যাক্স টোকেন সাথে রাখতে হবে। ৩. হেলমেট বাধ্যতামূলক: নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেলমেট ছাড়া কোনো চালককে জ্বালানি তেল দেবে না পাম্প কর্তৃপক্ষ। ৪. পাত্রে তেল বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা: প্লাস্টিক বোতল, ড্রাম বা অন্য কোনো আলগা পাত্রে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৫. অননুমোদিত বিক্রয় বন্ধ: অনুমোদিত ফিলিং স্টেশন ছাড়া খোলা বাজারে বা সাধারণ দোকানে জ্বালানি তেল কেনাবেচা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

ফুয়েল কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ‘ফুয়েল কার্ড’ সংগ্রহের প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ রাখা হয়েছে। আগ্রহী চালকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) অফিস এবং জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (Website) থেকে এই কার্ড বা এর ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে এই সিস্টেমকে আরও জনবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।

আইনি ব্যবস্থা ও নজরদারি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, যদি কোনো পাম্প মালিক বা মোটরসাইকেল চালক এই নির্দেশনা অমান্য করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর লিগ্যাল অ্যাকশন (Legal Action) নেওয়া হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে জেলা জুড়ে বিশেষ টিম কাজ করবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিস্টেমটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং সাধারণ গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধে সাতক্ষীরা একটি মডেল জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে কার্ড বিতরণের প্রক্রিয়াটি যেন দ্রুত এবং সহজতর হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

Tags: legal action bangladesh law district administration satkhira news fuel card dc satkhira black marketing motorcycle oil energy rules fuel management