জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের খলিলহাটা এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে অপমান সইতে না পেরে সুরুজ্জামানের স্ত্রী জোসনা বানু নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন।
ঘটনার সূত্রপাত ও মধ্যযুগীয় বর্বরতা স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাত ২টার দিকে খলিলহাটা এলাকার পুলিশ সদস্য নায়েব আলীর বাড়িতে গরু চুরির চেষ্টা হয়। এর জেরে রাত ৩টার দিকে ইউপি সদস্য নায়েব আলীর নেতৃত্বে একদল লোক সুরুজ্জামানের বাড়িতে হানা দেয়। তারা সুরুজ্জামানের ছেলে সুজন মিয়াকে চোর সন্দেহে খুঁজতে থাকে। সুজনকে বাড়িতে না পেয়ে তারা তার বাবা সুরুজ্জামান ও মা জোসনা বানুকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
সালিশের নামে নির্যাতন ও অপমান পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশি বৈঠক বসে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনেই চোর সন্দেহে সুরুজ্জামান ও জোসনা বানুকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই নির্যাতন ও জনসমক্ষে চরম অপমান সইতে না পেরে বাড়ি ফিরে বিষপান বা গলায় ফাঁস দিয়ে (তদন্তাধীন) আত্মহত্যা করেন জোসনা বানু।
ভিকটিম পরিবারের দাবি নিহত জোসনা বানুর স্বামী সুরুজ্জামান অভিযোগ করেন, নায়েব আলীদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে, যা বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। সেই বিরোধের প্রতিশোধ নিতেই পরিকল্পিতভাবে তাদের চোর সাজিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। সুরুজ্জামান বলেন, "আমাদের মারধর করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে খবর পাই আমার স্ত্রী মারা গেছেন।"
পুলিশের পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সংবাদমাধ্যমকে জানান, চুরির অভিযোগে ছেলেকে না পেয়ে বাবা-মাকে মারধরের ঘটনাটি প্রাথমিক তদন্তে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে গোলাম কিবরিয়া মুক্তা (৩৫) এবং হৃদয় (২০) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।