বিগত সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাতে ‘লুটপাটের’ অভিযোগ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল দাবি করেছেন, দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে গজ, ব্যান্ডেজ ও সিরিঞ্জ কেনার মতোও পর্যাপ্ত টাকা নেই।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতে ‘লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার’ কারণে উন্নয়নমূলক কাজের কোনো তহবিল এখন হাতে নেই।
রোববার জাতীয় সংসদে গাইবান্ধা-৪ আসনের সরকারদলীয় এমপি মোহাম্মদ শামীম কায়সার জনগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
ঈদ এবং অনান্য ছুটির কারণে টানা ১৩ দিন বিরতির পর জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসেছে।
এদিন বিকাল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়।
অধিবেশনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান অংশ নেন।
দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী সংসদের প্রথম এক ঘণ্টা প্রশ্নোত্তর পর্ব। এছাড়া জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিস এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা রয়েছে।
সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে গাইবান্ধা-৪ আসনের এমপি শামীম কাযসার তার জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যে লুটপাট স্বাস্থ্যখাতে হয়েছে। যে ধরনের অব্যবস্থাপনা হয়েছে, তাতে কোথাও চলমান প্রকল্পে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি।”
তিনি সংসদকে বলেন, ২৫০ শয্যার যেসব হাসপাতাল নির্মাণাধীন রয়েছে, সেগুলোর পরিকল্পনাতেও বড় ধরনের ‘ত্রুটি’ আছে।
সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “আড়াইশ শয্যার হাসপাতালগুলো নির্মাণাধীন, সেগুলোর প্রকৌশলীর পরিকল্পনায় প্রবেশ পথ যে দিকে, সেখানে বাথরুম করে রেখেছে। যেখানে মানুষ ঢুকতে পারবে না ময়লার গন্ধে।
“তড়িঘড়ি করে টাকা কামানোর লক্ষ্যে খারাপ পরিকল্পনার মাধ্যমে হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয়েছিল। লুটপাট করা হয়েছে।”
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। তারপর দেশের হাল ধরে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এ সরকারের প্রায় ১৮ মাস পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি।
স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নমূলক কাজে যাওয়ার মতো কোনো তহবিল নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গজ, ব্যান্ডেজ, সিরিঞ্জ কেনার মতো পর্যাপ্ত টাকা নেই। সব শেষ করে গেছে।”