মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে এক আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা পেসার রুবেল হোসেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে শুরু হওয়ার ঠিক আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে এই বিশেষ বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়। ৩৬ বছর বয়সি এই তারকা পেসার এদিন সপরিবারে স্টেডিয়ামে হাজির হন, যেখানে মাঠের হাজারো দর্শক আর সতীর্থদের করতালির মধ্য দিয়ে তার বর্ণিল ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক ইতি টানা হয়।
বিদায়ী ভাষণে রুবেল তার এই পথচলার নেপথ্যে থাকা মানুষদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান বোর্ড প্রেসিডেন্ট তামিম ইকবালকে। রুবেলের ভাষ্যমতে, অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর তামিম নিজেই তাকে ফোন করে এই বিশেষ সম্মাননার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা তাকে অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত করেছে। রুবেল বলেন, বিসিবি এবং তামিম ইকবাল আজ তাকে যে সুন্দর পরিবেশে সম্মানিত করেছেন, তা তার হৃদয়ে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রুবেল তিনজন মানুষের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, আজ তিনি রুবেল হোসেন হতে পেরেছেন তার বাবা-মায়ের জন্য, যাদের তিনি এই বিদায়বেলায় সবচেয়ে বেশি মিস করছেন। পাশাপাশি তার ক্যারিয়ার গড়ার কারিগর খ্যাতনামা কোচ সারোয়ার ইমরান স্যারের কথা বলতে গিয়ে তিনি কৃতজ্ঞতায় নুয়ে পড়েন। পেসার হান্ট থেকে রুবেলকে খুঁজে বের করে ক্রিকেটের মূল মঞ্চে ওঠার সিঁড়ি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ইমরান স্যারের অবদান অন্যরকম ছিল বলে তিনি জানান। বিদায়লগ্নে রুবেল তার দীর্ঘদিনের বন্ধু, অগণিত সমর্থক, গণমাধ্যমকর্মী এবং ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ফিজিও ও মাঠকর্মীদের প্রতিও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। গত ১৫ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে অবসরের ঘোষণা দেওয়া রুবেল বাংলাদেশ দলের হয়ে ২৭টি টেস্ট, ১০৪টি ওয়ানডে এবং ২৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। যদিও গত চার বছর তিনি দলের বাইরে ছিলেন, কিন্তু ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার সেই অবিস্মরণীয় স্পেলটি আজও প্রতিটি বাঙালির মনে অমলিন। রুবেলের সেই জোড়া উইকেটের সৌজন্যেই বাংলাদেশ প্রথমবার আইসিসি টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে পা রাখতে সক্ষম হয়েছিল। সেই স্মৃতি সঙ্গী করেই আজ মাঠ ছাড়লেন এই গতি তারকা।