• দেশজুড়ে
  • টঙ্গীবাড়ীতে ১৫ লাখ টাকার ওয়াকওয়ে প্রকল্পে ‘নিম্নমানের পাথর’ বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে ঠিকাদার-প্রশাসন

টঙ্গীবাড়ীতে ১৫ লাখ টাকার ওয়াকওয়ে প্রকল্পে ‘নিম্নমানের পাথর’ বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে ঠিকাদার-প্রশাসন

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
টঙ্গীবাড়ীতে ১৫ লাখ টাকার ওয়াকওয়ে প্রকল্পে ‘নিম্নমানের পাথর’ বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে ঠিকাদার-প্রশাসন

মোঃ নাজমুল ইসলাম পিন্টু, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি,

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলা চত্বর ঘেঁষে নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ে প্রকল্পকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ। কাজ শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই নিম্নমানের পাথর ব্যবহারের অভিযোগে সরব হয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল, তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন।

বুধবার বেলা প্রায় ২টা ৩০ মিনিটে ‘জাতীয় ছাত্র শক্তি, টঙ্গীবাড়ী উপজেলা’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ছবি ও স্ট্যাটাস প্রকাশ করে সরাসরি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সেখানে প্রশ্ন তোলা হয়-এই নির্মাণকাজে আসলে কোন মানের পাথর ব্যবহার হচ্ছে?

স্ট্যাটাসে বলা হয়, “টঙ্গীবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমরা জানতে চাই-উপজেলা পরিষদ ঘেঁষে নির্মিতব্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজে ঠিক কোন ক্যাটাগরির পাথর (এ, বি, সি, ডি) ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা কী?”

আরও বলা হয়, “আমাদের হয়তো জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। তাই টঙ্গীবাড়ীর সচেতন ছাত্রসমাজ জানতে চায়-চলমান ওয়াকওয়ের নির্মাণ সামগ্রীতে কোনো ভেজাল বা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার হচ্ছে কিনা।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এর আওতায় “মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় উপজেলা কমপ্লেক্স পুকুর পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজ” শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ১৬ লাখ টাকা হলেও চুক্তি হয়েছে ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকায়।

প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে ০৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে, শেষ হওয়ার কথা ০৪ জুন ২০২৬। কাজটি করছে মেসার্স মাহিন এন্টারপ্রাইজ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরুতেই যদি নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার হয়, তাহলে পুরো প্রকল্পের টেকসইতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। জনসাধারণের অর্থে নির্মিত এই প্রকল্পে কোনো ধরনের গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অনেকেই।

জাতীয় ছাত্র শক্তি, টঙ্গীবাড়ীর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে-যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় বিষয়টি নিয়ে আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।

এবিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মোঃ সোহেল বলেন, নিন্মমানের পাথর ব্যবহারের প্রশ্নই উঠে না। আপনারা এসে দেখুন।

এদিকে উপজেলা সাব-সহকারী ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রাজু শেখ বলেন, নিন্মমানের পাথর ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, আমি বিষয়টি দেখবো।

ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে-এটা কি শুধু অভিযোগ, নাকি সত্যিই চলছে নিম্নমানের কাজ? দ্রুত তদন্তই দিতে পারে সেই উত্তর।