​ফেনীতে জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড

আরও চার মামলায় গ্রেপ্তার মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, তদন্ত কর্মকর্তাদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি

আপলোড সময় : ০১-০৭-২০২৬ , আপডেট সময় : ০১-০৭-২০২৬

এম. এমরান পাটোয়ারী, ফেনী: ফেনীর মহিপালে জুলাই আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত পৃথক চারটি হত্যা মামলায় ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আদেশ দিয়েছেন আদালত। তবে শুনানির সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা অবস্থায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ভবিষ্যতে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী।

এ ঘটনায় উক্ত হত্যা মামলাগুলোর তদন্তকারী কর্মকর্তাদের একজন বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ফেনী মডেল থানার নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ফেনী সদর আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান পৃথক চারটি হত্যা মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ফেনী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম শাহী হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন, জাকির হোসেন শাকিব হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অলি আহাদ, ইসতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন এবং সরোয়ার জাহান মাসুদ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন আদালতে শুনানিতে উপস্থিত থেকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন ও মামলার অগ্রগতি তুলে ধরেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, চারটি হত্যা মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে মঙ্গলবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে আদালতে সরাসরি হাজির না করে পূর্বের আদালতের অনুমতি অনুযায়ী ভার্চুয়ালি যুক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তারা মামলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘এখন ক্ষমতা আছে, গ্রেপ্তার দেখান। আমরাও এটার শেষ দেখে নেব।’

মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বক্তব্যটি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে হুমকিস্বরূপ ছিল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আদালত দ্রুত তাকে চার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়ে ভার্চুয়াল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। আমি আদালতে উপস্থিত ছিলাম। বিষয়টি নিয়ে আরও বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি ছিল। তবে আদালত দ্রুত কার্যক্রম শেষ করায় আর কিছু বলার সুযোগ হয়নি।

ফেনী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ও সাইদুল ইসলাম শাহী হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, চারটি মামলায় শুনানি শেষে আদালত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন। আমরা চারজন তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে ছিলাম। তিনি কিছু বিরূপ মন্তব্য করেছেন। 

ইসতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বলেন, আদালতে কিছু উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। তবে এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আর কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। 

এ ব্যাপারে জানতে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা থানায় জিডির বিষয়টি এড়িয়ে যান। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তারা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

ফেনী আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, চারটি হত্যা মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বক্তব্য শেষে আদালত তাকে চার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। শুনানিতে আসামি ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

এদিকে থানায় জিডি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফেনী মডেল থানাা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজীম বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই চলছে। আমরা এ নিয়ে কাজ করছি।

এর আগে, রাত সোয়া ৯টায় এ বিষয়ে জানতে কথা হয় ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমাকে কেউ জানায়নি। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আমি অবগত নই।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফেনীর মহিপালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সহিংসতায় হতাহতের ঘটনায় এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছিল।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :