শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সুনামগঞ্জ : জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের উজানীগাঁও গ্রামে অযত্নে-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি। সরকার ২০১৬ সালে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই বিদ্যালয়টি নির্মাণ করা হয়।
নির্মাণের এক দশক পেরিয়ে গেলেও অধ্যাবদি এখনো চালু হয়নি সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের একমাত্র সরকারি সমন্বিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি। ফলে এ অঞ্চলের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুরা শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যালয় ভবন থাকলেও শিক্ষার্থী না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে পুরো অবকাঠামো।
এখানে রয়েছে অফিস কক্ষ, রান্নাঘর, ডাইনিং হল এবং আবাসিক সুবিধা। তবে নির্মাণ শেষ হলেও আজ পর্যন্ত চালু হয়নি শিক্ষা কার্যক্রম। পুরো স্থাপনাটি এখন কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের অবহেলায় ভবনের দেয়ালের রং খসে পড়েছে, বিভিন্ন অংশে জীর্ণতার ছাপ ¯পষ্ট। সংরক্ষিত আসবাবপত্র ও শিক্ষাসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর ভবনের নিচতলার অরক্ষিত অংশে জুয়াড়ি ও মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। যদিও এ থেকে বিরত থাকতে দেয়ালে সতর্কীকরণ পোস্টার টানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবায়নের অভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুরা এখনো শিক্ষার বাইরে রয়ে গেছে। দ্রুত বিদ্যালয়টি চালুর দাবি তাদের। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, এত বড় একটা স্কুল তৈরি হলো, কিন্তু কোনো কাজে লাগছে না। আমাদের এলাকার অনেক প্রতিবন্ধী শিশু আছে, তারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত চালু করা উচিত। আরেক বাসিন্দা মছকু মিয়া বলেন, সরকার কোটি টাকা খরচ করে ভবন বানিয়েছে, কিন্তু ব্যবহার না হওয়ায় এখন নষ্ট হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক। সচেতনমহলের মতে, পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। তারা বলছেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, প্রয়োজন যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থী সংগ্রহে কার্যকর উদ্যোগ।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার লিমা জানান, শিক্ষার্থী সংকটের কারণেই কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। ভর্তির জন্য একাধিকবার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। তবে দ্রুত বিদ্যালয়টি চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।