নানা সংকটে বিপন্ন হাকালুকি—ধ্বংসের মুখে জীববৈচিত্র্য

আপলোড সময় : ২৩-০৮-২০২৬ , আপডেট সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ০৩:৪৭:৫২ অপরাহ্ন

গোলাম কিবরিয়া, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) : শীতে অতিথি পাখি আর বর্ষায় দেশীয় মাছের প্রজননে মুখর হয়ে ওঠে হাকালুকি হাওর। তবে পাখি শিকার, প্রজনন মৌসুমে মাছ নিধন, আবাসস্থল সংকট ও পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে হুমকির মুখে পড়েছে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই জলাভূমির জীববৈচিত্র্য।

বড়লেখা, জুড়ী, ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জজুড়ে প্রায় ১৮ হাজার ৩৮২ হেক্টর হাওর এলাকায় এখনো নেই কোনো পাখির অভয়াশ্রম। শীতকালে জাল, ফাঁদ ও বিষটোপে পাখি শিকার এবং বর্ষায় নিষিদ্ধ জালে ডিমওয়ালা মাছ, রেণু ও পোনা ধরার অভিযোগ রয়েছে।

২০২১ সালে মালাম বিল এলাকায় বাঁধ নির্মাণের নামে হিজল, করচ ও বরুণসহ প্রায় ২০ হাজার জলজ বৃক্ষ কাটার অভিযোগ ওঠে। এতে নষ্ট হচ্ছে পাখির আবাসস্থল ও হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য।

হাল্লা এলাকার মনোহর আলী মাস্টারের ‘পাখি বাড়ি’ সারা বছর হাজার হাজার পাখির আশ্রয়স্থল। পাখির নিরাপদ আবাস হিসেবে এটিকে সংরক্ষণ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলোতে অভয়াশ্রম গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ সচেতনরা।

হাকালুকি হাওর রক্ষা কমিটির সদস্য আব্দুল হাফিজ চৌধুরী বলেন, অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হলে পাখি শিকার বন্ধে কার্যকর নজরদারি ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, নির্বিচারে গাছপালা নিধনে পাখির আবাসস্থল ও প্রজননক্ষেত্র নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত নজরদারিতে সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাছের অভয়াশ্রমের পাশাপাশি পাখির অভয়াশ্রম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, হাওরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হলে পাখি ও মাছ শিকার বন্ধের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সচেতন মহলের মতে, পাখির অভয়াশ্রম, বৃক্ষরোপণ, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে হাকালুকি হাওরের হারানো জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :