বিশ্বের নতুন মানচিত্র অনুমোদন দিলো জাতিসংঘ

আপলোড সময় : ০৫-০৯-২০২৬ , আপডেট সময় : ০৫-০৯-২০২৬

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রকৃত আয়তন ও অনুপাত সঠিকভাবে তুলে ধরতে একটি নতুন বিশ্ব মানচিত্র গ্রহণের প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। শুক্রবার আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো ও বাহামাসের উত্থাপিত ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ নামের এই প্রস্তাবের পক্ষে ১৬৪টি দেশ ভোট দেয়। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকলেও প্রস্তাবের বিরুদ্ধে একমাত্র ভোটটি দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

প্রস্তাবটিতে বলা হয়, বর্তমানে প্রচলিত ‘মার্কেটর প্রজেকশন’ মানচিত্রের বিকৃতির কারণে বিশ্বের যৌথ ভাবনায় আফ্রিকা মহাদেশের প্রতীকী অবমূল্যায়ন ঘটেছে। ১৫৬৯ সালে ইউরোপীয় মানচিত্রকর জেরার্ডাস মার্কেটর এটি তৈরি করেছিলেন, যা ভৌগোলিক দিক দিয়ে বিষুবরেখা থেকে দূরের দেশগুলোকে অস্বাভাবিক বড় দেখায়। বাস্তবে গ্রিনল্যান্ড ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর কাছাকাছি আয়তনের এবং আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে ১৪ গুণ বড় হলেও এই মানচিত্রে দুই অঞ্চলকে প্রায় সমান দেখায়। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাকে বড় ও কেন্দ্রে দেখানোর এই প্রবণতা একতরফা বিশ্বভাবনা তৈরি করেছে বলে বিচারে উল্লেখ করা হয়।

জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তকে ‘জ্ঞানভিত্তিক বিচার ও ঐতিহাসিক সংশোধন’ উল্লেখ করে ১৫৬৯ সালের মানচিত্রের বদলে ২০১৮ সালে উন্মোচিত ‘ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন’ ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন এই মানচিত্রে ইউরোপের আকার সংকুচিত হবে, ব্রাজিল ও আফ্রিকা দৃশ্যমানভাবে বড় হবে এবং গ্রিনল্যান্ডের আয়তন নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো জানান, ফ্রান্স মার্কেটর পদ্ধতি বর্জন করছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন দৃশ্যত আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনায় অতিরিক্ত গুরুত্ব পেয়ে আসছে। এসব বিকৃতি অবশেষে চিন্তায় শিকড় গেড়ে বসেছে এবং এটি সংশোধনের সময় এসেছে।

এর আগে গত মার্চে আফ্রিকান ইউনিয়ন এই নতুন মানচিত্র গ্রহণ করে। আফ্রিকান ইউনিয়নের স্বাস্থ্য, মানবতা ও সামাজিক উন্নয়ন বিভাগের কমিশনার আম্মা তওম-আমোয়াহ বলেন, মানচিত্রে একসময় ছোট করে রাখা আফ্রিকা এখন তার প্রকৃত ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক, নৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক আকার তুলে ধরার দাবি জানাচ্ছে।

নতুন এই পদক্ষেপে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকেও (যেমন গুগল ম্যাপস) মানচিত্রের সঠিক সংস্করণটি ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক বিশ্ববীক্ষণ বদলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
 

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :