তানিয়া আক্তার, মুন্সীগঞ্জ : নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক অধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে জেন্ডার সংবেদনশীল গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে মুন্সীগঞ্জে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার ফ্রেন্ডস কিচেন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সম্পৃক্ততায় নারীর কর্মপ্রসার’ প্রকল্পের পরিচালক রওশন আরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টিটিসির প্রিন্সিপাল নাহিদা পারভিন। প্রকল্প ব্যবস্থাপক আফসানা সেহেরী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন সিরাজদিখান মহিলা অধিদপ্তরের উপসহকারী পরিচালক রহিমা বেগম, আলোকিত বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি মো. মাসুদ রানা, বাংলা টিভি ও দৈনিক গণমুক্তির জেলা প্রতিনিধি রুবেল মাদবর, দৈনিক সভ্যতার আলোর স্টাফ রিপোর্টার মো. আবু সাঈদ, দৈনিক মুন্সীগঞ্জের সময়ের প্রতিনিধি মো. সাওন, চ্যানেল ২১ নিউজ টিভির নিউজ প্রেজেন্টার হালিমা দেওয়ান রিয়া, বাংলা টিভির ফটোসাংবাদিক মো. শাহিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
নারীপক্ষের উদ্যোগে এবং ‘স্থানীয় সম্পৃক্ততায় নারীর কর্মপ্রসার’ প্রকল্পের (Advantage GIZ Project) সার্বিক সহযোগিতায় কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় নারীর অধিকার, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে সমাজে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে নারী শ্রমিক ও কর্মজীবী নারীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সাফল্য ও ইতিবাচক পরিবর্তনের গল্প গণমাধ্যমে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় নারীর দক্ষতা উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে তথ্যভিত্তিক ও জেন্ডার সংবেদনশীল প্রতিবেদন তৈরিতে সাংবাদিকদের উৎসাহিত করা হয়। নারীদের উদ্যোগ, অর্জন ও দক্ষতাকে সম্মানজনক ও ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন এবং নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন উদ্যোগ গণমাধ্যমে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সুযোগ-সুবিধা ও কর্মসংস্থানের তথ্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে টিটিসির প্রিন্সিপাল নাহিদা পারভিন বলেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানাতে সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কখন, কোথায় এবং কী ধরনের কর্মসূচি হচ্ছে—সেসব তথ্য অনেক সময় সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছায় না। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে স্বাবলম্বী করে তোলা সম্ভব। নারীর দক্ষতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সঠিক তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংযোগ ঘটাতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীর অধিকার, দক্ষতা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতিবাচক ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সমাজে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনা সম্ভব।