কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কুমিল্লা জেলা কারিগরি, ভোকেশনাল শিক্ষা ও ট্রেইনিং ইনস্টিটিউশন ফোরাম (টিভিইটি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার সমাপনী দিন রবিবার অনুষ্ঠিত হয় ‘কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, পেশাগত স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান সুযোগ বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্যানেল ডিসকাশন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং পুরোনো কারিকুলাম দিয়ে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক জব মার্কেটে টিকে থাকা অসম্ভব। বেকারত্ব দূর করতে এবং যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে শিক্ষাব্যবস্থায় শিল্প সংযোগ বাড়াতে হবে।
প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন পিএসসি সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম, সাবেক সচিব ও ডেসকো চেয়ারম্যান ড. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া এবং ঢাকা টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ড. প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত আলী। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন সিসিএন শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, কারিকুলাম তৈরির সময় একাডেমি ও ব্যবহারিক খাতের ব্যবধান ঘোচাতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এ যুগে কারিকুলাম অবশ্যই প্রযুক্তিভিত্তিক করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে তিন দিন ক্লাস এবং বাকি তিন দিন ইন্ডাস্ট্রিতে হাতে-কলমে কাজের সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব করেন তিনি, যাতে পড়াশোনা শেষ করার আগেই শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।
সমাপনী বক্তব্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানসিকতা পরিবর্তনের পাশাপাশি টেকনিক্যাল ও জেনারেল শিক্ষার সমন্বয়ে একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রয়োজন। ডিপ্লোমা ও বিএসসি ডিগ্রির মধ্যকার বিদ্যমান ব্যবধান দূর করে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজ বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, বেসরকারি চাকরিতে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নয়, বরং প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।