ইসলামি সভ্যতার একটি কেন্দ্রবিন্দু জুমা

আপলোড সময় : ০৯-১০-২০২৬ , আপডেট সময় : ০৯-১০-২০২৬
সাপ্তাহিক নামাজের দিন হিসেবেই শুধু নয়, মুসলমানদের কাছে জুমা বিশেষ বরকতময় একটি দিন। আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ, আত্মশুদ্ধি ও সামাজিক সংহতির মহান সুযোগ এনে দেয় দিনটি।
হাদিসে এসেছে, নবীজি (সা.) বলেছেন—“জুমার দিনই দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনেই আদম (আ.) সৃষ্টি হয়েছেন, এ দিনেই জান্নাতে প্রবেশ করেছেন, এবং এ দিনেই পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছেন।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪)
ফলে জুমা কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, ইসলামি সভ্যতার একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও এর অবস্থান। কিছু কাজ করতে এ দিনে বিশেষ উৎসাহ জোগানো হয়েছে; পাশাপাশি কিছু কাজ থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশও রয়েছে।
জুমার দিনের করণীয়
১. গোসল করা
নবীজি (সা.)-এর বাণী, “যে ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল করে, উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে, তারপর মসজিদে আসে, নীরবে খুতবা শোনে ও নামাজ পড়ে, তার এক জুমা থেকে পরের জুমা পর্যন্ত গুনাহ মাফ করা হয়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৩)
এ দিনের গোসল তাই বিশেষ ইবাদতের মর্যাদা পায়।
২. পরিচ্ছন্ন পোশাক ও সুগন্ধি ব্যবহার
সুন্দর পোশাক পরে ও সুগন্ধি লাগিয়ে জুমার নামাজে যেতে মুসলমানদের উৎসাহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে নবীজি (সা.) বলেছেন, “জুমার দিনে তোমাদের জন্য সুন্দর পোশাক পরা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম।” (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১৫২৪৮)
আধ্যাত্মিক পবিত্রতা ও সামাজিক মর্যাদা—দুয়েরই প্রতীক এটি।
৩. তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়া
আগে আগে জুমার নামাজে পৌঁছাতে পারলে বড় ফজিলত পাওয়া যায়। নবীজি (সা.)-এর ভাষায়, “যে ব্যক্তি প্রথম ঘণ্টায় জুমার জন্য যায়, সে যেন উট কোরবানি করল; দ্বিতীয় ঘণ্টায় গেলে গরু কোরবানি করল; তৃতীয় ঘণ্টায় গেলে ভেড়া কোরবানি করল; চতুর্থ ঘণ্টায় গেলে মুরগি কোরবানি করল; আর পঞ্চম ঘণ্টায় গেলে ডিম দান করল।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮১)
সুতরাং যাওয়া যত আগে হবে, সওয়াবের পরিমাণও তত বাড়বে।
৪. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা
খুতবার সময় অমনোযোগী থাকা, কথা বলা কিংবা ফোন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। নবীজি (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি খুতবা চলাকালীন তার সঙ্গীকে বলে ‘চুপ করো’, সে-ও অনর্থক কথা বলল।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৪)
৫. সুরা কাহফ তেলাওয়াত করা
জুমার দিনের আরেকটি বিশেষ ফজিলতের আমল সুরা কাহফ পাঠ। নবীজি (সা.)-এর বাণী, “যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহফ তেলাওয়াত করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোকিত হয়ে যাবে।” (মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস: ৩৩৯২)
৬. দোয়া করা ও দরুদ পাঠ করা
দোয়া কবুল হওয়ার একটি বিশেষ সময় রয়েছে জুমার দিনে। নবীজি (সা.) বলেন, “জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যেখানে কোনো মুসলমান নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তা অবশ্যই কবুল করেন।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৫)
আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টিই সেই মুহূর্ত বলে অনেক আলেমের অভিমত।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :