নীলফামারীতে পুজায় বিপণি বিতান গুলোতে ক্রেতা বাড়লেও বিক্রি কম

আপলোড সময় : ১১-১০-২০২৬ , আপডেট সময় : ১১-১০-২০২৬ ০১:৪৮:২২ অপরাহ্ন

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী: বছর ঘুরে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এ উপলক্ষ্যে নীলফামারীর বিপণি-বিতানগুলোতে হরেক রকম বাহারী পোশাক কেনা-কাটায় ক্রেতা বাড়লেও বিক্রি তুলনামুলক অনেক কম।

শহরের মকবুল হোসেন সুপার মার্কেট, খয়রাত হোসেন সুপার মার্কেট, ইবাদত প্লাজা, মোরাদ আলী প্লাজা, নুর প্যালেস ও পৌরসুপার মার্কেটসহ জেলা শহরের বিভিন্ন মার্কেটে এমনটি লক্ষ্য করা গেছে। তবে ব্যবসায়িদের দাবি, সময় আছে আশা করা যায় কেনাকাটা ভালই হবে।

দুর্গা উৎসবে কেনাকাটা মানেই নতুন পোশাক, পূজার সামগ্রী, অলঙ্কার, এবং গৃহ সাজসজ্জার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা। এই সময় সারাদেশে মার্কেটগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে এবং নতুন কালেকশন বাজারে আসে। কেনাকাটার মধ্যে থাকে জামাকাপড়, জুতো, স্যান্ডেল,ব্যাগ, মহিলাদের প্রসাধনী এবং অন্যান্য ফ্যাশন সামগ্রী। এদিকে, জমে উঠেছে শাখারী পট্টি। মরাল সংঘ মোড়ের লোকনাথ শঙ্খ শিল্প ভান্ডারের প্রোফাইটর গণপতি রায় জানান, “হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীদের মূল্যবান অলঙ্কার হলো শাখা। শাখা ছাড়া কোন নারীর বিয়েই হয় না। এবার পুজায় আগাম অর্ডারও পেয়েছি। তবে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল না। ক্রেতা আছে বিক্রি নাই। এখানে শঙ্খ, শাখা, সিঁদুর, পলা ও পুজার বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায়। নিজশ্ব কারখানায় তৈরী বিধায় এসব পণ্য বিক্রি করে খরচবাদে কিছু টাকা লাভ হবে।” রহিমা ক্লথ এন্ড গার্মেন্টেসের প্রোফাইটর মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, “বিক্রি যা হচ্ছে, ভালই হচ্ছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক কম। এরমধ্যে পূজা পড়েছে মাসের শেষদিকে। জানতে চাইলে বলেন, ছেলেদের পায়জামা-পাঞ্জাবি ৮০০ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা, বিভিন্ন মানের শার্ট-প্যান্ট পাঁচশ থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও, থ্রি-পিচ, শাড়ী, শ্যালোয়ার, কামিজ ও ছোট বাচ্চাদের হরেক রকমের পোশাক বিক্রী হচ্ছে। তবে দিন যতই যাচ্ছে, ক্রেতা সমাগম বাড়ছে।” এ ব্যাপারে স্মৃতি গার্মেন্টস এর মালিক মো. মকবুল হোসেন বলেন, “ষষ্টী পুজা পর্যন্ত কেনাকাটা চলবে। এবারও পূজার বাজারে ছেলেদের পায়জামা-পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের থ্রি-পিস, শাড়ি এবং বাচ্চাদের পোশাক প্রচুর রয়েছে। তবে তুলনামুলকভাবে বিক্রি কম হচ্ছে।” জেলা শহরের শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালিবাড়ীর কেন্দ্রীয় মন্দির সংলগ্ন বাসিন্দা শ্যামল চক্রবর্তী বলেন, দূর্গাপুজা মানেই শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি সামাজিক বন্ধন ও উৎসব, যেখানে সবাই হেসে, খেলে ও নাচ গানের মধ্য দিয়ে আনন্দ করে। এই আনন্দ-উৎসব শুধু জামা কাপড়েই সীমাবদ্ধ নয়,এ যেন পরিবারকে একত্রিত করার এক মাধ্যম। এদিকে, পূজার মার্কেটে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নয়, অন্যান্য ধর্মের ক্রেতাদেরও উপস্থিতি দেখা গেছে। নিউ বাবুপাড়ার স্বপ্না রাণী নামের একজন ক্রেতা বলেন, “পূজার জন্য বাচ্চাদের স্কুল ছুটি হয়েছে। এ কারণে গ্রামে বাবার বাসায় যাব। তাই ভাই বোনদের জন্য কেনাকাটা করছি। দাম সাধ্যের মধ্যেই আছে বলে জানান তিনি।” বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের এমন পরিস্থিতিতে দুর্গাপূজার বাজার কেমন হয়, এ নিয়ে শঙ্কায় ছিল। তাই অনেকে ভয়ে ভয়ে পূজার বাজারে নতুন কাপড় এনে ছিলো। সবকিছু ছাড়িয়ে ক্রেতারা ঠিকই বিভিন্ন দোকানে ভিড় করছেন। তবে বিক্রিতে তেমন কোন প্রভাব পড়েনি।” সদর উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান কল্যাণ ফ্রুন্টের সদস্য সচিব ধীরেশ রায় বলেন, “শারদীয় দূর্গাপুজা উপলক্ষে সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে বইছে উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে নতুন জামাকাপড় কেনা নিয়ে রয়েছে সবার মাঝেই আলাদা উন্মাদনা। মা, বাবা, ভাই-বোন, ছেলে-মেয়েকে সাথে নিয়ে নিজের পছন্দের পোশাক খুঁজে নিচ্ছে। ছোটদের মধ্যে উৎসাহ আরও বেশি। নতুন জামা পড়ে পূজা মন্ডপে যাবে, বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ করবে। বাচ্চাদের জন্য বাবা-মা যেন একটু বেশি ব্যস্ত তাদের পছন্দ মিলিয়ে কেনাকাটায়।” জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান কল্যাণ ফ্রুন্টের সভাপতি স্বাধিন ঘোষ জানান, “বর্তমানে অসংখ্য নারী উদ্যোক্তা তাদের বাহারি পোশক কমদামে অনলাইনে বিক্রী করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের প্রচার-প্রচারনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা দেখে অনেকেই মুগ্ধ হচ্ছেন এবং অনলাইনে পোশাক অর্ডার করছেন। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসায়িরা সমস্যায় পড়েছে।”

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :