আবুধাবি টেস্টে জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। ম্যাচ জিততে শেষ দিনে প্রয়োজন আর মাত্র ৭ উইকেট। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের সামনে লক্ষ্য পাহাড়সম। এই লড়াইয়ের মধ্যেই টেস্ট অধিনায়কত্বের অভিষেকে বিরল এক কীর্তি গড়েছেন আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ। দুই ইনিংসেই পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করে বিশেষ এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। এই টেস্ট দিয়েই প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানকে টেস্টে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রহমত। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ম্যাচেই ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও পেয়েছেন অর্ধশতকের দেখা। টেস্ট অধিনায়কত্বের অভিষেকে দুই ইনিংসেই অন্তত পঞ্চাশ রান করার কীর্তি গড়া ক্রিকেটারদের তালিকায় তিনি ষষ্ঠ।
এই তালিকায় সর্বশেষ নাম উঠেছিল ২০১৪ সালে। সেবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবার টেস্ট খেলতে নেমে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেন বিরাট কোহলি। প্রথম ইনিংসে ১১৫ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১৪১ রান।
কোহলির আগে আরও চার অধিনায়ক এই কীর্তি গড়েছিলেন। ১৮৯৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের আরচি ম্যাকলারেন অধিনায়কত্বের অভিষেক টেস্টে করেন ১০৯ ও অপরাজিত ৫০ রান। ১৯৫৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের গফ রাবোনের সংগ্রহ ছিল ১০৭ ও ৬৮ রান। ১৯৭৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেগ চ্যাপেল করেন ১২৩ ও অপরাজিত ১০৯ রান।
বাংলাদেশের বিপক্ষেও এই কীর্তি গড়ার নজির রয়েছে। ২০১১ সালে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্রেন্ডন টেলর করেন ৭১ ও অপরাজিত ১০৫ রান। এবার রহমত শাহও নিজের নাম লিখিয়েছেন এই বিশেষ তালিকায়।
তবে ব্যক্তিগত কীর্তির বাইরেও আফগানিস্তানের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। ম্যাচ জিততে তাদের সামনে রয়েছে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে ৪৫০ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের নজির নেই। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৮ রান তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যা এখনো টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড।
আফগানিস্তান জিততে পারলে ভেঙে যাবে ২৩ বছর ধরে অক্ষত সেই রেকর্ড। অন্যদিকে, বাংলাদেশ চাইবে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করতে। ফলে রহমত শাহর ব্যক্তিগত কীর্তির পাশাপাশি শেষ দিনে ম্যাচের ফলও থাকছে আলোচনায়।