রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশজুড়ে অন্তত ৬ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। রাতভর চালানো এই হামলায় রাজধানী কিয়েভে অন্তত ছয়জন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার কথা বললেও রুশ বাহিনী ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। কিয়েভ, কিয়েভ অঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভের বিভিন্ন স্থাপনা এ হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাতের হামলায় রাশিয়া ৩৯টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২৮টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১১৫টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের রাতের ব্যাপক হামলায় কিয়েভ ও খারকিভ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত যোগাযোগ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। একই সঙ্গে মস্কো, অধিকৃত ক্রিমিয়াসহ রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ৯০২টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে মন্ত্রণালয়।
এর আগে গত রোববার (১১ অক্টোবর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের সমঝোতার কথা জানান। তাঁর দাবি ছিল, দুই পক্ষই তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়া এই উদ্যোগে সম্মত হয়েছে এবং কেউ তা লঙ্ঘন করবে না।
এরপর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি একাধিকবার বলেছেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের তেল শোধনাগার ও অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করে, তাহলে কিয়েভও একই ধরনের হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত। তবে সাম্প্রতিক হামলার পর এ উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইউরোপ ইউক্রেনে নতুন অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে, যা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করবে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।