মাসুদ রানা, ময়মনসিংহ ব্যুরো: অন্যায়, অসত্য ও মিথ্যার বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে লড়াই করার শিক্ষা দেয় জামায়াতে ইসলামী। ঈমানি শক্তি, তাকওয়া ও নৈতিক দৃঢ়তা এ আন্দোলনের সবচেয়ে বড় অর্জন। এসব আদর্শ থেকে বিচ্যুত হলে সাংগঠনিক শক্তিও দুর্বল হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ময়মনসিংহ মহানগরীর অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের ব্যক্তিগত প্রাপ্তির চেয়ে ঈমানি দৃঢ়তা ও তাকওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাকওয়ার চর্চা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
জামায়াতের এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে নিজ নিজ এলাকায় দাওয়াতি কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। কাউকে জোর করে নয়, বরং স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইসলামের আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট করার মাধ্যমে দাওয়াতি কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি বলেন, সাংগঠনিক মতবিরোধ, ঈর্ষা, বিদ্বেষ ও পরশ্রীকাতরতা পরিহার করে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। নেতৃত্বের পদ নিয়ে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার পরিবর্তে দায়িত্ববোধ, যোগ্যতা ও সাংগঠনিক নীতিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
নেতৃত্বে পরিবর্তনকে স্বাভাবিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, কে কোন পদে দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি বড় বিষয় নয়। নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষের কাছে ইসলামের আদর্শ তুলে ধরাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।
মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ঈমানি শক্তি ও আল্লাহর ওপর আস্থা মানুষকে দৃঢ় থাকতে সাহস জোগায়। জামায়াতের কর্মীদের এই চেতনা ধারণ করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো পরিস্থিতিতেই তাকওয়া ও নৈতিক আদর্শের সঙ্গে আপস করা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলনের শক্তি কেবল সাংগঠনিক কাঠামো বা পদ-পদবিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর মূল ভিত্তি ঈমান, তাকওয়া ও আদর্শিক দৃঢ়তা। এসব গুণাবলি নিজেদের জীবনে ধারণ করার পাশাপাশি সমাজেও ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার চর্চা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে।
ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের আমির মোঃ আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. ছামিউল হক ফারুকী। এ ছাড়া জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল, বিভিন্ন থানার আমির, ইউনিয়ন পর্যায়ের আমির ও সভাপতি এবং রুকনরা সম্মেলনে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ।