ফ্রেমে বাঁধানো এক টুকরো রোদ

জন্মদিনের ক্যানভাসে বাবা-মায়ের নিঃশর্ত ভালোবাসা

আপলোড সময় : ১৭-১০-২০২৬ , আপডেট সময় : ১৭-১০-২০২৬

আ আওয়াজ ডেস্ক : জন্মদিন মানেই তো ক্যালেন্ডারের পাতায় একটি বিশেষ সংখ্যা যোগ হওয়া, কেক কাটা কিংবা কিছু উপহারের সমাহার। কিন্তু এই আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক গভীর আবেগ, যার পরতে পরতে বোনা থাকে বাবা-মায়ের দীর্ঘ ১৬ বা ১৮ বছরের বিনিদ্র রাত, বুকভরা স্বপ্ন আর বুক চিরে বেরিয়ে আসা নিঃশব্দ প্রার্থনা। একটি কন্যাসন্তানের জন্মদিন তাই কেবল তার বয়স বাড়ার দিন নয়; এটি প্রতিটি পরিবারের জীবনে এক টুকরো রোদের স্নিগ্ধ পরশ ছুঁয়ে যাওয়ার আনন্দোৎসব।

বাড়ির ছোট্ট মেয়েটির জন্মদিন। সকালের প্রথম আলো ফোটার আগেই মায়ের আলতো ছোঁয়া কিংবা বাবার কপালে স্নেহের চুম্বন—এভাবেই শুরু হয় দিনটি। যে দিনটিতে সে প্রথম এই পৃথিবীর আলো দেখেছিল, সেদিনের কথা আজও বাবা-মায়ের হৃদয়ে জলজ্যান্ত।

একটি কন্যাসন্তান যখন পরিবারে আসে, তখন ঘরের কোণগুলো যেন সুরের মূর্ছনায় ভরে ওঠে। বাবা হয়তো প্রথমবার তার ছোট্ট আঙুলটি নিজের শক্ত মুঠোর ভেতর ধরে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন পৃথিবীর সমস্ত ঝড়ঝাপটা থেকে তাকে আগলে রাখার। আর মা তার অবয়বের মাঝে খুঁজে পেয়েছিলেন নিজেরই এক অন্য রূপ। আজ সেই ছোট্ট মেয়েটি যখন একটু একটু করে বড় হচ্ছে, তখন তার প্রতিটি হাসিতে বাবা-মায়ের জীবনের সমস্ত ক্লান্তি নিমিষেই কর্পূরের মতো উড়ে যায়।

মেয়ের জন্মদিন মানেই পুরো পরিবারের এক আনন্দঘন মিলনমেলা। দাদা-দাদির আশীর্বাদ, চাচা-ফুফু কিংবা খালা-মামাদের খুনসুটি—সব মিলিয়ে দিনটি এক অন্য রূপ নেয়। আমাদের সমাজে অনেক সময়ই বাবা-মায়ের ভালোবাসা মুখে প্রকাশ পায় না। গম্ভীর স্বভাবের বাবা হয়তো সারাদিন কাজের ব্যস্ততায় ডুবে থাকেন, কিন্তু মেয়ের পছন্দমতো কেকটি ঠিক সময়ে হাজির করার দায়িত্ব তার কাঁধেই থাকে। আর মা? মায়ের ভালোবাসা তো এক অদৃশ্য চাদর, যা সারাক্ষণ মেয়েকে ঘিরে রাখে। তার পড়াশোনা, পছন্দ-অপছন্দ, রান্নার আবদার কিংবা মন খারাপের মেঘ জমলে তা দূর করার জাদুকরী ক্ষমতা কেবল মায়েরই জানা।

পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা বলেন, ঘরের কন্যারা হলো স্নিগ্ধ নদীর মতো। তাদের কলকাকলিতে পুরো পরিবার প্রাণবন্ত থাকে। জন্মদিনের এই বিশেষ দিনে পরিবারের প্রত্যেকেই নিজেদের অজান্তে ফিরে যান ফেলে আসা অতীতে, যখন মেয়েটি আরও ছোট ছিল।
আজকের জন্মদিনে এসে মেয়েটি হয়তো জীবনের এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। শৈশবের সেই পুতুল খেলার দিনগুলো পেছনে ফেলে সে এখন নিজের স্বপ্নগুলোকে রাঙাতে শুরু করেছে। তার চোখে আজ নতুন আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন।

বাবা-মায়ের জন্য এই সময়টি এক মিশ্র অনুভূতির। একদিকে মেয়ে বড় হওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে তাকে একটু একটু করে বাইরের দুনিয়ার মুখোমুখি করার অদৃশ্য ভয়। কিন্তু সেই ভয়কে ছাপিয়ে জয়ী হয় ভরসা। বাবা-মা জানেন, তাদের দেওয়া নৈতিক শিক্ষা, আদর্শ এবং ভালোবাসার শক্ত ভিতই মেয়েটিকে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সাহস জোগাবে।

একটি কেক বা উপহারের মোড়ক খোলার আনন্দ সাময়িক হলেও, জন্মদিনের আসল সার্থকতা লুকিয়ে থাকে ভালোবাসার গভীরতায়। আজকের এই দিনে মেয়ের প্রতি বাবা-মায়ের একমাত্র চাওয়া—সে যেন নিজের মতো করে আকাশে ডানা মেলতে পারে, স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারে এবং ভালো মানুষ হিসেবে সমাজে নিজের স্থান করে নিতে পারে।

জন্মদিন ফুরিয়ে যাবে, রাতের নিস্তব্ধতায় কেকের মোমবাতিও নিভে যাবে; কিন্তু বাবা-মায়ের বুকভরা আশীর্বাদ আর পরিবারের এই উষ্ণ ভালোবাসা চিরকাল জোনাকির মতো আলো ছড়াবে মেয়েটির পুরো পথচলায়। শুভ জন্মদিন, স্নেহের রাজকন্যা!

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :