জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭ বছর: অর্জন, উদ্যোগ ও আগামীর অঙ্গীকার

আপলোড সময় : ১৮-১০-২০২৬ , আপডেট সময় : ১৮-১০-২০২৬

মানবসেবা ও জনকল্যাণের লক্ষ্য সামনে রেখে ১৯৯৯ সালে পথচলা শুরু করা জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) ২৭ বছর পূর্ণ করেছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নানা উদ্যোগের মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠানটি এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে।

২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে এই বিশেষ ক্রোড়পত্র, যেখানে সংগঠনটির মানবিক কার্যক্রম, উল্লেখযোগ্য অর্জন ও ভবিষ্যৎ অঙ্গীকারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ক্রোড়পত্রে রয়েছে ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের বাণী; সেইসঙ্গে পরিচালকদের মূল্যায়ন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের শুভেচ্ছা। সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহায়তা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করার প্রত্যয় নিয়েই অব্যাহত থাকবে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের এই অভিযাত্রা।

-: জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্টের বাণী :-

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের—বিশেষ করে চিকিৎসক, কৃষিবিদ, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, স্বেচ্ছাসেবক, শুভানুধ্যায়ী এবং মানবতার সেবায় নিয়োজিত সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

১৯৯৯ সালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-জেডআরএফ-এর পথচলা শুরু হয়েছিল মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে। মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া—এটিই জেডআরএফ-এর ব্রত। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা যারা গ্রহণ করতে পারেন না, সেই পিছিয়ে পড়া ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে সংগঠনটি নিজের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছে।

মসৃণ ছিল না দীর্ঘ ২৭ বছরের এই পথচলা। নানা প্রতিকূলতায়—বিশেষ করে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের সময়—জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও মানবসেবার যে অঙ্গীকার নিয়ে জেডআরএফ-এর জন্ম, তা কখনো থেমে যায়নি। প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন এই সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও চিকিৎসকগণ।

যে কোনো দুর্যোগেই দুর্গত মানুষের কাছে ছুটে গেছেন তাঁরা। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মহামারি কিংবা অন্য কোনো মানবিক সংকটে মানুষ যখন অসহায়, তখন জেডআরএফ-এর কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা নিজেদের নিরাপত্তার কথা না ভেবেই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে, এমনকি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের কঠিন সময়েও সংগঠনের সদস্যরা আন্দোলনকারী ও আহত মানুষের জীবন রক্ষায় সাহসের সঙ্গে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।

সংগঠনের গৌরবময় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই দিনে সেসব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে আমি বিশেষভাবে স্মরণ করতে চাই, যারা মানব সেবাকে কেবল পেশা হিসেবে নয় বরং মানুষের প্রতি দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন। প্রতিকূল সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা অসুস্থ, আহত ও বিপন্ন মানুষের চিকিৎসা দিয়েছেন, তাদের অবদান কোনোদিন বিস্মৃত হওয়ার নয়। মানুষের জীবন বাঁচানোর চেয়ে মহৎ কাজ আর কী হতে পারে?

সংগঠনের প্রকৃত শক্তি তার ভবন, অর্থ কিংবা সাংগঠনিক কাঠামোতে নয়—আমি বিশ্বাস করি, সেই শক্তি রয়েছে মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতায়। দুঃসময়ে মানুষের পাশে থাকার এই মানসিকতাই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সবচেয়ে বড় অর্জন, আর তা আজও অটুট।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী দিনেও অতীতের মতোই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন তাদের কর্মপরিধি আরও বিস্তৃত করবে, সেবার পরিসর আরও বাড়াবে। চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, কৃষি, দুর্যোগ মোকাবিলা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে হবে। মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তো এগুলোই—একজন অসহায় মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, একজন দরিদ্র শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেওয়া, একজন কৃষকের পাশে দাঁড়ানো কিংবা দুর্যোগে বিপন্ন একটি পরিবারের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক—মানুষের দুঃখে আমরা পাশে থাকব, তাদের বিপদে এগিয়ে যাব এবং সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে প্রতিটি অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করব। গত ২৭ বছর ধরে যারা নীরবে, নিঃস্বার্থভাবে এবং সাহসের সঙ্গে মানবসেবার এই অভিযাত্রাকে এগিয়ে নিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা রইল।

আসুন, মানবতার পতাকাকে আরও উঁচুতে তুলে ধরি; মানুষের সেবাকে আমাদের পরিচয় এবং মানবতাকে আমাদের পথচলার প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করি। সফল ও সার্থক হোক জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। আল্লাহ আমাদের সবাইকে মানুষের কল্যাণে কাজ করার তৌফিক দান করুন।

-তারেক রহমান
প্রেসিডেন্ট,
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন

-: জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্টের বাণী :-

১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর আর্তমানবতার সেবায় জন্ম নেওয়া জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) আজ কলেবর বৃদ্ধি করে বিভিন্ন পেশার মানুষকে একই ছাদের নিচে এনে পরস্পরের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের বীজ বপন করতে সক্ষম হয়েছে। অরাজনৈতিক, বেসরকারি ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় জনগণের প্রয়োজনে বিরামহীনভাবে সেবা দিয়েছে এটি—করোনাকালীন সময়েও যা জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে।

মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে। প্রতিটি উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, মানবিক মর্যাদা এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। জাতির কাছে ভরসার এক প্রতীক হিসেবে আজ বিবেচিত হয়েছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন; দেশ-বিদেশে সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছে ফাউন্ডেশনের প্রতিটি কাজ।

শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশ রক্ষাতেও সাম্প্রতিক সময়ে কার্যকর ভূমিকা রেখে যাচ্ছে জেডআরএফ। একদিকে যেমন ছিল কোভিডকালীন মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে ভার্চুয়াল বিজ্ঞান মেলা : ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে, কড়াইলবাসীর হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য বিশেষায়িত মেডিকেল ক্যাম্প, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সচেতনতামূলক লিফলেট ও মশারী বিতরণ, মাইলস্টোন ট্রাজেডিতে আহত শিশুদের চিকিৎসার ব্যবস্থা, প্রাইমারি স্কুল সংস্কার; একই সাথে ছিল পরিবেশ রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো আয়োজন। উল্লেখ্য, ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত তৃতীয় বিজ্ঞান মেলা “ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে ২০২৬” অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

গরীব ও মেধাবী শিশুদের মাঝে বই বিতরণ, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের হেলথ চেক আপ ও ঔষধ প্রদানসহ শিক্ষা উপকরণ প্রদান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত সুরভি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত হেলথ চেক আপ ও ঔষধ প্রদানের ব্যবস্থা, বগুড়াতে মূক ও বধির স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন, ভাষানটেক, সাততলা, কড়াইলবাসী যেন নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পায় সেজন্য ভলান্টিয়ার টিম তৈরি করা, ভাষানটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশনসহ চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন—এসব উদ্যোগ কেবলমাত্র সামাজিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এই কর্মযজ্ঞে সম্পৃক্ত মানুষগুলোকে “যেখানেই ভাল কাজ সেখানেই জেডআরএফ” এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত করেছে।

প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে আজ অবধি অভিজ্ঞতা ও অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের আস্থার একটি মানবিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন তার অবস্থান সুদৃঢ় করে চলেছে। মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে—স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিজ্ঞানচর্চা, কৃষি, পরিবেশ, নারীর ক্ষমতায়ন ও দুর্যোগ মোকাবিলাসহ—এর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, ছোট ছোট উদ্যোগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

মানবিক সেবার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এগিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটির স্বপ্নদ্রষ্টা প্রেসিডেন্ট জনাব তারেক রহমান-এর দেখানো পথেই। ২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত সকল সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও শুভানুধ্যায়ীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা ও সেবার অঙ্গীকার নিয়ে আমাদের এই পথচলা অব্যাহত থাকুক; প্রতিটি উদ্যোগ মানুষের জীবনে স্বস্তি, সম্ভাবনা ও আত্মনির্ভরতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করুক।

পরিশেষে, ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সকলের সুস্বাস্থ্য ও শুভকামনা করছি আমি। আল্লাহ হাফেজ।

-ডা. জুবাইদা রহমান
ভাইস-প্রেসিডেন্ট
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন

-: মানবতার সেবায় ২৭ বছর :-

অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার:

বাবার নামে একটি ফাউন্ডেশন করবেন—১৯৯৯ সালে এমন চিন্তা করেছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান; নাম হবে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। রাজনীতিকে রাজনীতির স্থানে রেখে রাজনীতির বাইরে সাধারণ মানুষের জন্য কী করা যায়—সেই সময় তাঁর মূল উদ্দেশ্যই ছিল তা-ই, আর সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পদযাত্রা শুরু। খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার দিঘুলিয়ায় একটি মেডিক্যাল ক্যাম্প তিনি প্রথমে করেন; এই মেডিক্যাল ক্যাম্পের মাধ্যমেই তাঁর যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী পর্যায়ে তিনি চিন্তা করলেন—এ দেশের সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করতে হলে তাদেরকে আর্থিকভাবে উন্নয়ন করতে হবে।

সারা দেশের তৃণমূলের সংগঠন তিনি তখন গোছাচ্ছিলেন, করতেন তৃণমূল সমাবেশ। সেই সমাবেশের সময় পাশাপাশি প্রত্যেকটি জেলার প্রান্তিক মানুষকে হাঁস, মুরগি, গাছের চারা, গরু, ছাগল প্রভৃতি উপকরণ দিতেন তিনি। তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল—এর মাধ্যমে ওই ব্যক্তির আর্থিকভাবে উন্নতি সাধন হবে, সামাজিকভাবে সচ্ছল হবে এবং এর মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক চাকা সচল হবে। এই প্রকল্প যে খুব একটা বড় ছিল তা কিন্তু নয়; প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ছিল মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা। তাঁর এই কর্মকাণ্ড দেখে দেখে অন্যরাও যাতে একই ধরনের কাজ করতে পারে—এবং বাস্তবে তাই-ই দেখা গেছে। হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল দেয়া যখন থেকে তিনি শুরু করলেন, তখন অন্যান্য যেসব জায়গায় আমাদের জেডআরএফ নেই, সেখানেও মানুষ একই কায়দায় প্রান্তিক মানুষকে দান করতেন। এইভাবে তাঁর কর্মকাণ্ড চলতে থাকে। এই ফাউন্ডেশনের প্রথম যে কমিটি হয়েছিল, সেখানে তিনিই একমাত্র নন-ডাক্তার; বাকি ২১ জন ডাক্তার নিয়ে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। বিরামহীন চলতে থাকে এই যাত্রা।

অসচ্ছল মেধাবীদের পাশে দাঁড়াতে তারেক রহমানের নির্দেশে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে ২০০৫ সালে বৃত্তি প্রদান প্রকল্প চালু হয়। আর্থিকভাবে অসচ্ছল অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ধরে রাখতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা করা হয়। ২০০৫ সালে ঢাকার এলজিইডি ভবনে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয় এই বৃত্তি প্রদান। পরবর্তীকালে রাজনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে কিছুদিন কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও পরবর্তীতে আরও বিস্তৃত পরিবারের মধ্যে তা চালু করা হয়। ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট জনাব তারেক রহমান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের দিক-নির্দেশনায় পুনরায় ২০২৩ সালে সারাদেশের মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের ১৯ জন সন্তানকে শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান করা হয়।

অসহায় মানুষের স্বাস্থ্য সেবায়

দেশের যে কোনো দুর্যোগ সংকটকালে ও জরুরি অবস্থায় জেডআরএফ নিয়মিত ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজন করে থাকে। এসব ক্যাম্পে রোগীদের সুচিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়; স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শও দেওয়া হয়। সম্প্রতি এসব সেবা প্রদান করা হয় খুলনার রূপসা, ঢাকার যাত্রাবাড়ী, কড়াইল বস্তি, গাজীপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায়। নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ থেকে যারা বঞ্চিত, বিশেষ করে তাদের কাছে এই ক্যাম্পগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফাউন্ডেশন-এর প্রেসিডেন্ট জনাব তারেক রহমান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের পরামর্শে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়ায় নিজ বাড়িতে স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্প করা হয়। গত বছর ১৮ অক্টোবর ফাউন্ডেশন-এর ২৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেই স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্পে প্রায় ৭ হাজার রোগী সেবা গ্রহণ করেন। ফাউন্ডেশনের চিকিৎসক এবং সদস্যরা সুবিশাল সেই স্বাস্থ্য শিবিরের কাজ অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেন। শীতের কারণে ঠান্ডাসহ চোখে আক্রান্ত মানুষকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ঢাকার কাকরাইল বস্তিতে আয়োজন করা হয় ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প। আর সিলেটে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন করে কয়েক হাজার রোগীকে সেবা প্রদান করা হয়।

স্বাভাবিক জীবনে ঠোঁটকাটা রোগী

জননেতা তারেক রহমানের আগ্রহে একটি বিশেষ উদ্যোগ হিসাবে জার্মান বিশেষজ্ঞ সার্জনদের সহযোগিতায় বগুড়া, খুলনা এবং গাইবান্ধায় প্লাস্টিক ও রিকন্সট্রাকটিভ সার্জারি ক্যাম্প আয়োজন করে জেডআরএফ। এই ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ৪৫০ জন ঠোঁটকাটা, তালুকাটা ও পোড়া রোগীকে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করা হয়। আর্থিক অভাব বা চিকিৎসা সুবিধার অভাবে সার্জারি করতে না পারলেও এসব ক্যাম্পের মাধ্যমে অনেকেই নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। বিভিন্ন জেলায় এ কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে।

অ্যাজমা রোগীদের সেবা

বাংলাদেশের প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত। এটি ২০০৩ সালের সরকারি হিসাবের ধারণা। একটি মাত্র সমন্বিত অ্যাজমা সেন্টারে এমন রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত সেবা পাওয়া কঠিন। এই প্রয়োজন অনুভব করে মানবিক তারেক রহমানের দিক-নির্দেশনায় ২০০৩ সালে বগুড়া এবং ২০০৪ সালের চট্টগ্রামে অ্যাজমা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে। সফল চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন বগুড়ায় প্রায় ৫,৮৭১ জন এবং চট্টগ্রামে ৩,১১৯ জন রোগী। বর্তমানে এই সেবা চলমান রয়েছে।

কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপন

গণতান্ত্রিক আন্দোলন বা দুর্ঘটনার কারণে যারা হাত, পা হারিয়েছেন, তাদের জন্য কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে জেডআরএফ—মানবতার সেবক তারেক রহমানের দিক-নির্দেশনা ও তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধানে।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এ সহযোগিতা চলছে এবং এর মাধ্যমে বহু মানুষ নতুন করে চলাফেরা ও কর্মজীবনে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি শহীদ পরিবার, নিখোঁজ বা নির্যাতিত পরিবারের পাশে থেকেছে জেডআরএফ এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে।

বিশুদ্ধ কমল পানি সরবরাহ

ঢাকার দাসেরকান্দি এলাকার মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে সেখানে পানি দূষণ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছায়। তারেক রহমানের নির্দেশে এই সমস্যার সমাধানে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সহযোগিতায় কমল (শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ডাক নাম কমল, সেই হিসাবে এই পানির নাম রাখা হয়েছে) পানি প্রকল্পটি চালু করে জেডআরএফ। এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১২০টি পরিবার বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাচ্ছে। পাশাপাশি আরও ১৬০টি পরিবার এখানে ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রেখে চলেছে এই উদ্যোগ।

করোনাকালে সেবা

মহামারি করোনাকালে মানুষ যখন জীবনের ভয়ে গৃহবন্দী, তখন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের চিকিৎসক, কৃষিবিদসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা আক্রান্ত মানুষের দ্বারে দ্বারে অক্সিজেন সিলিন্ডার, প্রাইভেট মেডিকেল পিপিই ও ওষুধসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। আবার যারা অনেকটাই গৃহবন্দী, তাদের জন্য হটলাইন স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হয়।

দুর্যোগ দুর্বিপাকে জেডআরএফ

তারেক রহমানের নির্দেশে ২০২৪ সালে ফেনীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা, জুলাই আন্দোলনের সময় আহতদের চিকিৎসা সেবা, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে দক্ষ ছাত্র শিক্ষকদের সহায়তা, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ, ডেঙ্গু ও অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, হৃদরোগ প্রতিরোধক প্রচারণা, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ঈদ উপহার ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান—এ সবের মধ্যে কিছু সাম্প্রতিক কার্যক্রম এখন তুলে ধরা হচ্ছে।

ভেটেরিনারি মেডিক্যাল ক্যাম্প

দেশব্যাপী ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজন করেছে ফাউন্ডেশন, তারেক রহমানের দিক-নির্দেশনায়। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ আগস্ট ২০২৫ জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ময়মনসিংহ জেলার সুতিয়াখালী গ্রামের জহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। ক্যাম্পে গ্রামের কৃষকের গবাদি পশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হয়। ১৫ নভেম্বর ২০২৫ চট্টগ্রাম বাঁশখালীতে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও ফলজ গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অনুরূপ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কৃষকদের মাঝে এডাব্লিউডি কিট বিতরণ করা হয়।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা এবং পলিথিন ফেলে রাখার কারণে আমাদের স্বাস্থ্যহানি ঘটে—এ বিষয়টি ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। এইসব ময়লা-আবর্জনা গবাদি পশুর পেটে চলে যাওয়ার ফলে তাদের মধ্যে নানা ধরনের ক্ষতিকারক জীবাণুর অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে এবং সেই মাংস মানব স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এজন্য তার নির্দেশে ফেনী, খুলনাসহ আরও বেশ কয়েক জায়গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হয়।

আইডিয়া ফেস্ট ২০২৫ মিনি হ্যাকাথন

বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অভিপ্রায় তারুণ্যের ভাবনায় আগামীর বাংলাদেশ’ শিরোনামে আইডিয়া ফেস্ট ২০২৫ মিনি হ্যাকাথন’ তোমাদের ক্যাম্পে ক্যাম্পাসে শীর্ষক কর্মসূচি গ্রহণ করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। বাংলাদেশ নানা সমস্যায় জর্জরিত; এসব সংকট মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে তরুণদের। ফলে তাদের দক্ষ ও যোগ্য হিসাবে গড়ে তুলতেই ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ—অর্থাৎ তরুণরা যেন দেশের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের পথ নির্মাণ করতে পারে; এই আইডিয়া ফেস্ট’র মূল লক্ষ্যই সেটি। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমানের নির্দেশে এই ট্যালেন্ট হান্ট বা মিনি হ্যাকাথনের আয়োজন করা হয়। পরবর্তীকালে এই সকল তরুণদের নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়; ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিনে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক উদ্যোগে যুক্ত জেডআরএফ দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে মানবিক উদ্যোগেও যুক্ত হয়েছে জেডআরএফ। তুরস্কের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় জেডআরএফের সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি টিম ঢাকাস্থ তুরস্ক দূতাবাসে কম্বল হস্তান্তর করে।

পরিশেষে বলা যায়, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭ বছরের যাত্রা মূলত মানব কল্যাণ, সহমর্মিতা, উন্নয়ন ও সেবার ইতিহাস। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ পরিস্থিতি এবং মানবিকতার প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফাউন্ডেশন বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছে। মানবতার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ এই সংগঠন ভবিষ্যতেও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাবে; আরও বড় পরিসরে চলতে থাকবে আর্তমানবতার সেবা। মানবতাবাদী গুণে গুণান্বিত একজন তারেক রহমান যখন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট, তখন অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই এর কর্মকাণ্ড বিস্তার লাভ করবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ শহরের সকল জনসাধারণের জন্য ক্রমেই এই ফাউন্ডেশন তার কার্যক্রম বাড়িয়ে চলবে। বিভিন্ন পেশার প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস টিমের মানব সেবার তীব্র আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে জনবান্ধব এই সকল কর্মসূচি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও চলবে। আজ এই শুভদিনে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নিবেদন—তিনি যেন আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রেসিডেন্ট জনাব তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য অক্ষুণ্ণ রাখেন। আমরা জেডআরএফ-এর সকল সদস্য তারেক রহমানের মানবতাবাদী এই প্রতিষ্ঠানকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। তারেক রহমানের মানবতার দর্শনকে দেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে আমরা নিয়োজিত রয়েছি।

লেখক: নির্বাহী পরিচালক,
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন।

২৭ বছরের অর্জন আগামী দিনের দায়িত্ব আমাদের অঙ্গীকার:-

অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজীজ সুমন:

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)—একটি অরাজনৈতিক, জনকল্যাণমূলক ও মানবিক প্রতিষ্ঠান—প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর পূর্ণ করল। মানুষের সেবা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি মানবিক দায়িত্ব—প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় জেডআরএফ এমনটাই বিশ্বাস করে। মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই এর সবচেয়ে বড় পরিচয়।

দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা, পুনর্বাসন ও সামাজিক উন্নয়নে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে জেডআরএফ। অ্যাজমা সেন্টার, বগুড়ার শিশুস্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে হাঁস-মুরগি ও ছাগল বিতরণ, এবং তীব্র পানিসংকটে থাকা দাসেরকান্দিতে সুপেয় পানির ট্যাংক স্থাপন—এসব উদ্যোগে প্রতিফলিত হয়েছে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও জীবনমান উন্নয়নে ফাউন্ডেশনের অঙ্গীকার।

জেডআরএফের কার্যক্রমের বিস্তৃতি প্রমাণ করে দেশজুড়ে শত শত স্বাস্থ্যশিবির, ছানি রোগীদের জন্য চক্ষুশিবির, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও সহায়তা, পশুসম্পদ রক্ষায় ভেটেরিনারি ক্যাম্প এবং বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বড় দুর্ঘটনায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এর উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর একটি ছিল কোভিড-১৯ মহামারির শুরুতেই চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করে সহায়তামূলক কার্যক্রম গ্রহণ।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নে অঙ্গহানি ও গুরুতর শারীরিক ক্ষতির শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও সহায়তায় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ মানবিক দায়বদ্ধতার এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

জুলাইয়ের শহীদ পরিবারগুলোর কাছে ঈদ উপহার পৌঁছে দিতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চললেও সরাসরি পৌঁছানোর প্রচেষ্টা প্রমাণ করে—মানবতার সেবা দূরত্ব বা অবস্থানের সীমা মানে না।

বহু মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে জেডআরএফ দাঁড়িয়েছে শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে; তাদের অনেকে আজ চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও সেনা কর্মকর্তা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। এই সাফল্য শুধু ব্যক্তির নয়; এটি একটি মানবিক উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগের প্রতিফলন।

বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল চিন্তার সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে যুক্ত করতেও জেডআরএফের উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে আয়োজিত বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এসব মেলায় বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শন, উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন, প্রশ্নোত্তর ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা, দলগত কাজ ও নেতৃত্বের গুণ বিকশিত হচ্ছে। বিজ্ঞান মেলা কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুক্তিবাদী, প্রযুক্তিসচেতন ও দেশগঠনে সক্রিয় নাগরিক হিসাবে প্রস্তুত করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম এটি।

এই উদ্যোগে তারেক রহমানের প্রতিকৃতি যেন মানবিক নেতৃত্বের একটি প্রতীকী চিত্র হয়ে ওঠে—যেখানে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, তরুণদের প্রতি আস্থা এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যয় একসূত্রে মিলিত। তাঁর নেতৃত্বের ভাবনায় জেডআরএফের মানবিক কার্যক্রম যেমন মানুষের দুঃসময়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়, তেমনি বিজ্ঞান মেলার মতো উদ্যোগ তরুণদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের শক্তি জোগায়।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের জন্য কাজ করার পরিসর আরও বিস্তৃত করতে চায় জেডআরএফ। স্বাস্থ্যসচেতনতা, পরিবেশ ও নিরাপদ পানি, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য, অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, বিজ্ঞানশিক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মের বিজ্ঞানমনস্কতা বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষের জন্য, মানবতার জন্য এবং জ্ঞানভিত্তিক ভবিষ্যতের জন্য—জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের এই পথচলা অব্যাহত থাকুক। জেডআরএফের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সকল শুভানুধ্যায়ী, স্বেচ্ছাসেবক, চিকিৎসক, দাতা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহযোগীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা।

লেখক: পরিচালক,
বাংলাদেশ ক্যান্সার হাসপাতাল।

-: আহ্বায়কের শুভেচ্ছা :-

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, ১৮ অক্টোবর। হাঁটি হাঁটি পা পা করে দীর্ঘ ২৭ বছরের পথ পরিক্রমায় ফাউন্ডেশন সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আজকের এই শুভক্ষণে ফাউন্ডেশনের সব পর্যায়ের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

মানবসেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। চিকিৎসক, কৃষিবিদ, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে সমৃদ্ধ হয়েছে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম।

আমি বিশ্বাস করি, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা আরও সুসংগঠিতভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারব। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে প্রত্যাশা করি—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফাউন্ডেশনের অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল ও অর্থবহ হোক।

সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান
আহ্বায়ক,
২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটি

সদস্য সচিবের শুভেচ্ছা

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ফাউন্ডেশনের সকল সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও সেবাকর্মে সম্পৃক্ত সবার প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ ও মানবকল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তা, চিকিৎসাসেবা, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বৃক্ষরোপণ এবং তরুণদের সৃজনশীলতা বিকাশে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ফাউন্ডেশনের এই মানবিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ফাউন্ডেশনের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।

-অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম।
সদস্য সচিব
২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন কমিটি

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :